স্টার্টআপে উজ্জ্বল খুশবু জৈন, উদ্ভাবনীতে নারীশক্তির সাফল্য

ক্রাউডফান্ডিং স্টার্টআপে উজ্জ্বল নাম খুশবু জৈন। পারিবারিক পেশায় আনকোরা প্রলেপ দিয়েছেন তিনি।

0

কলকাতা: বাধা অনেক। পথে কাঁটা। সে সবকে সরিয়েই এগিয়ে চলেছে ভারতীয় নারীরা। তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সমস্ত বাধা দূর করতে সচেষ্ট কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আজাদি কি অমৃত মহোৎসব’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশ্বাস, দেশের মহিলারা যে সমস্ত বাধার মুখোমুখি হন, তা দূর করার চেষ্টা চলছে।

অন্যান্য সব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকলেও অতীতে শিল্প-বাণিজ্যে ভারতীয় মহিলাদের অংশগ্রহণ বেশ কম। তবে পৃথিবী এখন বদলে যাচ্ছে দ্রুত। বাধা সরিয়ে সামনে থাকা সুযোগকে হাতের মুঠোবন্দি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকেই। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলরা উদ্যোক্তা হওয়ার রুক্ষ পথে হাঁটতে যে সাহস দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ক্রাউডফান্ডিং স্টার্টআপে উজ্জ্বল নাম খুশবু জৈন

২০১৪ সালে ভারতীয় ক্রাউডফান্ডিং স্টার্টআপের জগতে প্রবেশ করেন খুশবু জৈন (Khushboo Jain)। ইমপ্যাক্টগুরুর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিওও তিনি। সংস্থার বিপণন, অপারেশন, কমিউনিকেশন, ডিজাইন এবং জনসংযোগ টিমের তত্ত্বাবধান করেন খুশবু।

কমিউনিটি-বিল্ডিং কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ, অলাভজনক উদ্যোগের সঙ্গে কাজ ImpactGuru.com-এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে।

মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে এবং আরও জীবন বাঁচানোর একটি দৃঢ় আবেগ ঘিরে ধরে খুশবু এবং তাঁর স্বামী পীযূষ জৈনকে। এই আবেগই ২০১৫ সালে তাঁদের একটি ফিনটেক কোম্পানি শুরু করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। ফলত তাঁদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যই হল জীবন বাঁচানোর দৃঢ় সদিচ্ছা।

খুশবুর মতে, ক্রাউডফান্ডিং হল চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের একটি বিকল্প পদ্ধতি। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে এই পদ্ধতিতে উপকৃতের সংখ্যাও নয়-নয় করে কম নয়। রোগী অথবা তাঁর আত্মীয়-পরিজন এই প্ল্যাটফর্ম ক্রাউডফান্ডিং করে। হাসপাতালের লম্বা বিল মেটাতে ডোনেশন তুলে থাকে খুশবুর সংস্থা।

পারিবারিক পেশায় আনকোরা প্রলেপ

মুম্বইয়ের সিডেনহাম কলেজে পড়াশোনা খুশবুর। বিজনেস ম্যানেজমেন্ট করেছেন। ডব্লিউই বিজনেস স্কুল – ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চে ভর্তি হয়ে মার্কেটিংয়ে মনোযোগ দিয়ে এমবিএ অর্জন করেছেন। পরে লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশন এবং নিউইয়র্কের পার্সনস স্কুল অফ ডিজাইনে পড়াশোনা করে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেন।

খুশবুর পরিবারের ঐতিহ্যগত পেশা ব্যবসা-বাণিজ্য। এমন পরিবারে বেড়ে ওঠা খুশবু খুব অল্প বয়সেই নিজের একটা ব্যবসার কথা ভাবতে শুরু করে দেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে পড়াশোনা করতে করতেই বাবার অফিসে কাজ শিখতে শুরু করে দেন। এই হাতে-কলমে শিক্ষা তো আর শুধু কলেজে গিয়ে পাওয়া যায় না!

আরও পড়তে পারেন: 

ইচ্ছে আর আত্মবিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে ভারতের নারীশক্তি, উদাহরণ অরুন্ধতী ভট্টাচার্য

কোনো অংশে পিছিয়ে নেই ভারতের নারীশক্তি, দৃষ্টান্ত ফাল্গুনী নায়ার

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন