bjp

ওয়েবডেস্ক: খবর আগুনের চেয়েও দ্রুত ছড়ায়। তাই মুম্বইয়ের লোয়ার প্যারেলের সেনাপতি বাপট মার্গের কমলা মিল এলাকার ওয়ান অ্যাবাভ রেস্তরাঁর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়ার পালা। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা দেশে এনেছে আতঙ্কের আবহ। সেই সুরেই এবার গলা মেলালেন বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়।

“ওটাকে শুধুই কমলা মিলের বাড়ি বললে ভুল হবে। ওই জায়গা মুম্বইয়ের এক অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। হামেশাই ওখানে বন্ধুদের সঙ্গে আমি আড্ডা দিতে যেতাম। সারা দিনের অবসাদ আমার দূর করে দিত ওই কমলা মিলের বাড়ির আড্ডা। আর শুধু আমি কেন, আমার মেয়েও ওখানে নিজের বন্ধুদের সঙ্গে যায়। এই তো দিন দুয়েক আগেও ওরা হইচই করে সময় কাটিয়ে এসেছে কমলা মিলের বাড়িতে”, বলছেন বাবুল।

তবে এই স্মৃতিরোমন্থনেই কেবল সাংসদ-গায়কের বিবৃতি শেষ হয়নি। “রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ড কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। চারপাশে কত দাহ্যবস্তুই তো থাকে! আক্ষেপের বিষয় এই যে সে কথাটা এবার কর্তৃপক্ষকে বেশ কড়া মূল্যেই বুঝতে হবে! অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আজকাল অনেক রেস্তোরাঁতেই থাকে না”, বলেছেন বাবুল। পাশাপাশি এ-ও যোগ করতে ভোলেননি, “তবে অগ্নিকাণ্ড হলেই সবার আগে রেস্তোরাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়”!

আরও পড়ুন: জন্মদিনেই আগুনে শেষ জীবনগাথা, দেখুন কমলা মিল দুর্ঘটনায় প্রয়াত খুশবুর জন্মদিনের ভিডিও

স্বাভাবিক ভাবেই অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবার এবং দেশবাসীর ক্ষোভের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওয়ান অ্যাবাভ রেস্তোরাঁ। শিব সেনা প্রধান আদিত্য ঠাকরে যেমন ঘটনায় সরাসরি দোষী তকমা দিয়েছেন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে, তেমনই শিব সেনা আইনজীবী সুনীল শিন্দেও কাঠগড়ায় তুলতে চাইছেন ওয়ান অ্যাবাভের মালিককে। পাশাপাশি, প্রশ্ন উঠছে দমকলের ভূমিকা নিয়েও। কেন দমকলকর্মীরা তাড়াতাড়ি আগুন নেভাতে পারলেন না, সেই প্রশ্ন ঘুরছে মুখে মুখে। যদিও ঘটনায় দমকলকর্মীদের পাশেই দাঁড়ালেন আর এক বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী। এবং মুখ খুলতেই তাঁর বিস্ফোরক বক্তব্য জন্ম দিল নয়া বিতর্কের।

“দমকল কী করবে? এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী তো মুম্বইয়ের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা! দমকলকর্মীরা তাঁদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মানুষের ভিড় তাঁদের কাজ করার পথে বাধার সৃষ্টি করেছে”, বক্তব্য হেমার।

এখানেই শেষ নয়। জনসংখ্যা আর অগ্নিকাণ্ডের এই স্বকপোলকল্পিত যুক্তি নিয়ে আরও কিছু বেফাঁস কথা বলেছেন হেমা। “আমার তো মনে হয় একটা শহরে কত লোক থাকবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত। তার চেয়ে জনসংখ্যা বেশি হয়ে গেলেই বাকিদের অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দিয়ে একটা নতুন শহর তৈরি করা উচিত। কোথায় এ ভাবে সমস্যার সমাধান হবে তা নয়, উল্টে এরা শহরটাকে ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে”, জানাচ্ছেন তিনি!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here