হিমাচল হাতছাড়া বিজেপি-র, এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের জন্য খুবই খারাপ খবর

0
অনুরাগ ঠাকুর। প্রতীকী ছবি

সিমলা: হিমাচলপ্রদেশে ক্ষমতা হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির। ৬৮ আসনের হিমাচল বিধানসভায় বিজেপি-র ঝুলিতে ২৫টি আসন। যা আগের বার ছিল ৪৪টি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এ বারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের (Anurag Thakur) নিজের লোকসভা কেন্দ্র, হামিরপুরের পাঁচটি বিধানসভা আসনে হারতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে।

সুজনপুর থেকে ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। এই আসনে থেকে অনুরাগের বাবা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রেমকুমার ধুমল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন। তিনি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে কারণে ধুমলকে এবার টিকিট দেয়নি বিজেপি। যদিও দল এবং তিনি উভয়েই জোর দিয়েছিলেন এই আসনে। এমনকী, এই বয়সে বাবাকে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখে প্রকাশ্যে চোখে জল এসে গিয়েছিল অনুরাগের।

বিজেপি মাত্র ৬০ ভোটের ব্যবধানে হেরেছে ভোরঞ্জ বিধানসভা আসনে। হামিরপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী। অন্য দিকে, বারসার এবং নাদৌনও কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে।

পার্বত্য রাজ্যে বিজেপির পরাজয়ের পর, তাৎক্ষণিক ভাবে বিজেপি সমর্থকদের কাছ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন অনুরাগ ঠাকুর। অনেকেই দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন তাঁকেই।

ঘটনায় প্রকাশ, বিজেপির বিদ্রোহীরা রাজ্যের ৬৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ২১টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র দু’জন জয়ী হয়েছেন। তবে অন্যরাও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন, যা বিজেপির বাক্সেই যাওয়ার কথা ছিল বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক ভাবে বিজেপি-তে তিনটি গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটেছিল। শোনা যায়, ওই তিনটি গোষ্ঠীর প্রত্যেকটিতে কোনো না কোনো হেভিওয়েট নেতাকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। যেমন, একটি গোষ্ঠী নিজেদের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছিল জেপি নড্ডাকে। অন্য একটিতে অনুরাগ। তৃতীয়টি মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরের অনুগত ছিল বলে জানা যায়।

অন্য দিকে, ঘর বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি সভাপতি জেপি নড্ডার (JP Nadda)। নিজের শহর বিলাসপুর থেকে তিনটি আসন জিতেছে বিজেপি। কিন্তু ওই আসনগুলিতে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধান নামমাত্র।

বলে রাখা ভালো, ড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের নজির রয়েছে হিমাচলপ্রদেশে। তবে এ বারের নির্বাচনে বিজেপির স্লোগান ছিল ‘রাজ নেহি, রিওয়াজ বদলেগা’, যার অর্থ ‘ঐতিহ্য বদলাবে, সরকার নয়’। ঠিক যে ভাবে আরেক পার্বত্য রাজ্য উত্তরাখণ্ডে একই ধরনের স্লোগান বাস্তবায়িত করেছে বিজেপি। কিন্তু ফলাফলে এসে থমকে যেতে হল বিজেপি-কে! ৪০টি আসনে জিতে বাজিমাত করল কংগ্রেস!

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন