কেন্দ্রকে জীবাণুনাশক টানেল নিষিদ্ধ করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: জীবাণুনাশক টানেল ব্যবহার অথবা সাধারণ মানুষের উপর জীবাণুনাশক ছড়িয়ে দেওয়া সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া ছাড়া কেন্দ্র আর কোনো পদক্ষেপই নেয়নি কেন্দ্র। যে কারণে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় দিকগুলি খতিয়ে দেখে জীবাণুনাশক টানেল নিষিদ্ধ অথবা নিয়ন্ত্রণ করতে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ কেন্দ্রকে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি অশোক ভূষণ, আর সুভাষ রেড্ডি এবং এম আর শাহের বেঞ্চ “সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উদ্বেগের দিকে লক্ষ্য রেখে” এক মাসের মধ্যে পদক্ষেপ সম্পূর্ণ করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির ব্যবহারের উপরেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা/নিয়ন্ত্রণ আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Loading videos...

কী কারণে মামলা?

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে দেশের বিভিন্ন শহরে যে জীবাণুনাশক টানেল বসানো হয়েছে। পক্ষান্তরে মানুষের শরীরে জীবাণুনাশক ছড়ানো নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উদ্দেশে অসংখ্য প্রশ্ন করেন সাধারণ মানুষ। জীবাণুনাশক টানেলের ব্যবহার বন্ধের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন গুরসিমরন সিং নরুলা।

এর আগে শীর্ষ আদালতে কেন্দ্র বলে, “করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে ব্যবহৃত জীবাণুনাশক টানেলের ভিতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ফল মারাত্মক হতে পারে। কারণ, এটা ভাইরাসকে মারতে পারে না, তবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করতে পারে”।

বিশেষজ্ঞদের মতামত উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রক সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার মাধ্যমে বিচারপতি অশোক ভূষণ, আরএস রেড্ডি এবং এমআর শাহের একটি বেঞ্চকে জানায়, “কোনো পরিস্থিতিতেই সরকারের তরফে মানুষের উপর জীবাণুনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়নি। এমনকী, কোনো রাস্তা, বাড়ির বাইরের অংশগুলিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করোনোভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো স্পষ্ট প্রভাব ফেলেনি”।

কী বলেছিল কেন্দ্র?

গত এপ্রিল মাসেই নির্দেশিকা জারি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়ে দেয়, “মানুষের শরীরে জীবাণুনাশক স্প্রে করবেন না”। বলা হয়, কোনো ব্যাক্তি বা দলের উপর কোনো পরিস্থিতিতেই জীবাণুনাশক স্প্রে করা বাঞ্ছনীয় নয়। কারও উপর এই রাসায়নিক জীবাণুনাশক স্প্রে করলে তাঁর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে”। এই জীবাণুনাশকে সোডিয়াম হাইপোক্লোরিন ব্যবহার করা হয় বলে জানা যায়।

একই সঙ্গে ওই নির্দেশিকায় বলা হয়, শরীরের বাইরে বা জামাকাপড়ে থাকা ভাইরাসকেও পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক পাওয়া যায়নি।

তবে কেন্দ্রের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় এর ব্যবহার সমানে চালু রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট মেহতার কাছে জানতে চায়, কেন্দ্র যদি গত এপ্রিল মাসেই এ ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করে থাকে, তা হলে রাজ্যগুলি তা মানছে না কেন?

বিচারপতি এমআর শাহ বলেছিলেন, গুজরাতের জেলা হাসপাতালগুলিতে এখনও এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। আপনারা (কেন্দ্র) সমস্ত রাজ্যে জীবাণুনাশক টানেলগুলির ইনস্টলেশন বন্ধ করার জন্য নির্দেশিকা এখনই জারি করুন”।

জীবাণুনাশক টানেলের ভিতর দিয়ে হাঁটলে কী হতে পারে?

*স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মত, একাধিক রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

*শরীরে জীবাণুনাশক স্প্রে করলে চোখ, মুখ- এমনকী সারা শরীরে চুলকানি হতে পারে।

*ঝিমুনি ভাব অথবা বমি হতে পারে।

আরও পড়তে পারেন: রাজ্যে কোভিডমুক্ত সাড়ে তিন লক্ষ! দৈনিক আক্রান্ত কিছুটা কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.