লোকসভায় বন্দে মাতরম্–এর ১৫০তম বর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনার সূচনা করতে গিয়ে অদ্ভুত এক ভাষাগত বিতর্কের মুখে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্যাংকিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে “বঙ্কিমদা” বলে সম্বোধন করতেই আপত্তি তোলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়। আর সেই নিয়েই সৃষ্টি হয় ‘দা’ বনাম ‘বাবু’ বিতর্ক।
বাঙালি সমাজে ‘দা’ বা ‘দাদা’ শব্দটি বেশ পরিচিত—ভ্রাতা, বন্ধু বা পরিচিতদের স্নেহসূচক সম্বোধন। তবে সাংসদ সৌগত রায় জানান, বাংলা সাহিত্যের মহীরুহবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘দা’ বলে সম্বোধন করা যথেষ্ট সম্মানজনক নয়। তিনি বলেন, “আপনি বঙ্কিমদা বলছেন? আপনার বলা উচিত বঙ্কিম বাবু।”
অর্থাৎ তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলা সাহিত্যের এমন এক মহীরুহকে স্নেহসূচক ‘দা’ নয়, সম্মানসূচক ‘বাবু’ বলা উচিত।
তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদি তাৎক্ষণিকভাবে সৌগত রায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, “আমি বঙ্কিমবাবুই বলব। ধন্যবাদ, আমি আপনার অনুভূতিকে সম্মান করি।” এরপর হাসিমজা করে তিনি যোগ করেন, “আমি কি আপনাকে দাদা বলতে পারি? নাকি তাতেও আপনার আপত্তি আছে?”
এর পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মূল বক্তব্যে ফিরে এসে ব্যাখ্যা করেন যে বন্দে মাতরম্ কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতার আহ্বানই ছিল না, বরং ভারতমাতাকে ঔপনিবেশিকতার সমস্ত শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার এক পবিত্র যুদ্ধধ্বনি ছিল। তিনি বলেন, “বন্দে মাতরম্–এর শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে ব্রিটিশরা বাধ্য হয়েছিল এর উপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে। গানটি গাইলে, এমনকি ছাপালেও শাস্তির বিধান ছিল। গানটিকে দমাতে কঠোর আইন তৈরি করা হয়েছিল।”
তবে এখানেই শেষ, বক্তব্যে স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি তরুণদের অবদান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি পুলিনবিহারী দাসকে ‘পুলিশনবিকাশ’ বলেন। তার পরে মাস্টারদা সূর্য সেনের উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি মাস্টারদা-র পরিবর্তে ‘মাস্টার’ বলে সম্বোধন করে বসেন।
লোকসভায় ১০ ঘণ্টা ধরে এই বিশেষ আলোচনা চলবে। একই আলোচনা রাজ্যসভাতেও হবে। প্রধানমন্ত্রী এটির সূচনা করলেও পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ বিভিন্ন দলের নেতারা এতে অংশ নেবেন।
দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


