ওয়েবডেস্ক: এই পারে, ওই পারে কানায় কানায় কানাকানি তো হবেই! হাত বাড়ালেই যেন ছুঁয়ে ফেলা যাবে- ঠিক এরকম বৃহৎ আকার নিয়েই রবিবারের রাতের আকাশ মাতাবে চাঁদ। আরও একটু ভেঙে বললে- সুপারমুন!

তা চাঁদের গায়ে দাগের পাশাপাশি সুপার শব্দটা জুড়ে যাওয়ার কারণ রয়েছে বইকি! রবিবারের এই চাঁদ রোজ আকাশে উঁকি দিয়ে যাওয়ার সেই চেনা চেহারা নিয়ে সামনে আসছে না যে! সে আসছে তার আয়তন দিয়ে আকাশের অনেকটাই ঢেকে দিতে। মানে শীতের দার্জিলিঙে যেমন যেখানে চোখ পড়বে, সেখানেই দেখা যাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা, এ-ও তাই! রবিবার আকাশে চাঁদ উঠলে কষ্ট করে তাকে খুঁজতে হবে না। আলসের পাশে, গাছের মাথার উপরে, ল্যাম্পপোস্টের ডগায়- সর্বত্রই তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে হেসে-খেলে। বাঁধ ভেঙে এই পৃথিবীর আনাচ-কানাচ ভরিয়ে দেবে চাঁদের হাসি।

সে না হয় হল! কিন্তু পূর্ণ চাঁদের মায়ায় পৃথিবীকে মজানোর জন্য আজকের দিনটাই কেন বেছে নিল প্রকৃতি?

আসলে চাঁদের এই বৃহদাকার ধারণ তো নেহাতই নিয়মের খেলা! নিয়ম করেই অক্ষপথে সে ঘুরে চলেছে পৃথিবীর চার পাশে। এরকম করে ঘুরতে ঘুরতে সে যখন পৃথিবীর খুব কাছে এসে পড়ে, তখনই তাকে স্বাভাবিক নিয়মেই আর পাঁচটা দিনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি বড়ো দেখায়। এরকম সময়ে চাঁদকে প্রায় ১৪% বেশি বড় দেখায়। সেই সঙ্গে তার ঔজ্জ্বল্যও বেড়ে যায় ৩০%। তখনই তাকে বলা হয় সুপারমুন। প্রতি বছরেই এমনটা ঘটে থাকে। গত বছরে যেমন ১২ ডিসেম্বর মুখ দেখিয়ে গিয়েছিল সুপারমুন।

আর রবিবার চলতি বছরে প্রথম ও শেষবারের জন্য দর্শন দিচ্ছে সে। নাসার তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, ঠিক বিকেল ৫টা ২৬ মিনিটে দেখা দেবে সুপারমুন। ধীরে ধীরে আঁধার চিরে বাড়তে থাকবে তার আয়তন আর আলো। জানা গিয়েছে, ঠিক রাত ৯টা ১৬ মিনিটে সবচেয়ে বড়ো আয়তন আর সবচেয়ে বেশি আলো নিয়ে চোখ ধাঁধিয়ে দেবে সে।

প্রায় প্রতি বছরেই আকাশ মাতালেও ১৯৪৮ সালের পর এতটা বড় আকারে দেখা যাবে রবিবারের চাঁদকে। ফের তাকে এমন রূপে পেতে গেলে অপেক্ষা করতে হবে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত।

তাহলে ক্যামেরা নিয়ে আপনি প্রস্তুত তো?

ছবি সৌজন্যে: রবীন্দ্র গোয়াঙ্কা