মেরঠ: প্রতি মঙ্গলবার মেরঠের পিএল শর্মা জেলা হাসপাতালের তিনশোটি বিছানায় কমলা রঙের চাদর পাতা হয়, আবার প্রতি বৃহস্পতিবার চাদরের রঙ পালটে হয়ে যায় হলুদ। কমলা বজরংবলি হনুমানের রঙ, আবার হলুদ সাইবাবার রঙ।

সপ্তাহের সাত দিন, বিছানায় সাতটি আলাদা রঙের চাদর বিছানোর পরিকল্পনা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে হিন্দু দেবদেবীর রঙের সঙ্গে বিছানার চাদর পালটানো হচ্ছে। বিছানার চাদরের রঙের পরিকল্পনাটি অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারতের মিশন’-এর অন্তর্গত ‘অপারেশন ইন্দ্রধনুশ’-এর নামে এই গোটা পরিকল্পনা কেন্দ্রের। কিন্তু সেখানে বলা হয়েছিল রামধনুর সাতটি রঙের (বেনিআসহকলা) ভিত্তিতে বিছানার চাদর পালটাতে হবে হাসপাতালগুলিকে। কিন্তু এই হাসপাতাল বেছে নিয়েছে দেবদেবীদের বারকে।

‘অপারেশন ইন্দ্রধনুশ’-এর কথা না মেনে তাঁরা যে নিজের মতো করে এই পন্থা নিয়েছেন, তা স্বীকার করেছেন হাসপাতালের সুপার ডঃ পিকে বনশল। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছ ভারত মিশনের অন্তর্গত অপারেশন ইন্দ্রধনুশের মাধ্যমে আমাদের সপ্তাহের সাত দিন সাতটি আলাদা রঙের বিছানার চাদরের কথা বলা হয়েছে। আমরা অবশ্য রামধনুর রঙের ভিত্তিতে না করে হিন্দু দেব এবং দেবীদের সঙ্গে জড়িত রঙের পরিকল্পনা নিয়েছি।”

মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবারের পাশাপাশি, সোমবার শিবের বার বলে সাদা রঙের চাদর দেওয়া হয় বেডে। বুদ্ধের রঙ সবুজ, তাই বুধবার হাসপাতালের বিছানার রঙ হয় সবুজ। শনিদেবের বার বলে শনিবার দেওয়া হয় নীল রঙের চাদর। রবিবার এবং শুক্রবার কোনো দেবদেবীর সঙ্গে জড়িত না থাকার ফলে ওই দু’দিন পার্পেল এবং গোলাপি রঙ ব্যবহার করা হয়।

প্রশ্ন হল ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ভারতের কোনো সরকারি হাসপাতালে এ রকম ভাবে বিছানার চাদরের রঙ বদলানোর সিদ্ধান্ত কি আদৌ যুক্তিযুক্ত!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here