‘বিশ্বের বৃহত্তম গণটিকাকরণের’, সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: ‘বিশ্বের বৃহত্তম’ করোনা টিকাকরণের সূচনা হল শনিবার। এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিক ভাবে এই দেশব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করলেন।

প্রায় এক বছর ধরে গোটা বিশ্বের সামনে সংকট তৈরি করেছে করোনাভাইরাস অতিমারী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যে করোনা টিকাকরণ শুরু হয়ে গেলেও ভারতে আজই তার সূচনা হচ্ছে। সকাল সাড়ে ১০টায় এই কর্মসূচির সূচনা করেন মোদী।

Shyamsundar

সারা দেশের ৩,০০৬টি কেন্দ্রে চলবে টিকাকরণ। রাজ্যে মোট ২১২টি টিকাকরণ কেন্দ্র করা হয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ জনকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নাম টিকা তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে থেকেই এ দিন টিকা দেওয়ার কথা।

দেশের সাতশো জেলায় প্রায় দেড় লক্ষ কর্মীকে টিকাকরণের জন্য বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষা সম্পর্কে উদ্বেগ, দুর্বল পরিকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের সংশয় কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য়ে সারা দেশ জুড়ে দুই পর্যায়ে চলেছে টিকাকরণের মহড়া বা ড্রাই রান।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. হর্ষ বর্ধন বলেন, প্রথম দিন দেশের ৩ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর টিকাকরণের সঙ্গেই সম্ভবত ‘কোভিড-১৯-এর শেষের শুরু’ হচ্ছে।

এ দিন ভিডিও কনফারেন্সে টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী যা বললেন

*করোনার সময় যে ভাবে ধৈর্য্য ধরেছিলেন, টিকাকরণের সময়েও তেমনটাই ধৈর্য্য ধরতে হবে।

*ইতিহাসে এত বড়ো টিকাকরণ এর আগে কখনোই হয়নি।

*বিশ্বের শতাধিক দেশ রয়েছে, যেখানে মোট জনসংখ্যাই তিন কোটি নয়। ভারত ছাড়া আমেরিকা এবং চিনের জনসংখ্যা ৩০ কোটির বেশি।

*এই টিকাকরণ অভিযান অভূতপূর্ব।

*ভ্যাকসিন তৈরি হতে অনেক সময় লাগে। আমাদের বিজ্ঞানীরা দিন-রাত এক করে কাজ করেছেন।

*খুব কম সময়ে জোড়া ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে ভারতে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই টিকা নিরাপদ।

*তিন কোটি স্বাস্থ্যকর্মীর টিকাকরণের খরচ বহন করবে সরকার।

*এঁরা অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারেননি। আজ তাঁদের ঋণ পরিশোধ করার সময়।

*টিকা নেওয়ার পরেও মাস্ক-দূরত্ববিধি মেনে চলুন।

*বিশ্বের বড়ো দেশগুলো এখনও করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আমরা তালি-থালি বাজিয়ে, প্রদীপ জ্বালিয়ে আত্মবিশ্বাসকে সব সময় উপরে রেখেছি।

*নিজেদের দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করেছে ভারত।

*ভারত যে ভাবে করোনার মোকাবিলা করেছে, আজ সারা বিশ্ব তার প্রশংসা করছে। কেন্দ্র-রাজ্য, বিভিন্ন সংস্থা কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে একই সংকল্পে কী ভাবে কাজ করতে পারে, ভারত তার উদাহরণ তৈরি করেছে। আজকের এই পরিস্থিতি সেই প্রচেষ্টারই পরিণতি।

*নিজেদের চাহিদা পূরণ করেও প্যারাসিটামল, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন থেকে নমুনা পরীক্ষার সরঞ্জাম দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিকে সাহায্য় করেছে ভারত।

*ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ রয়েছে। এক মাসের মধ্যেই এই দু’টি ডোজ নিতে হবে। প্রথম ডোজ দু’সপ্তাহের মধ্যেই কাজ করবে। ভ্রান্তির কোনো স্থান নেই। ভ্যাকসিন নিয়ে যে কোনো গুজব রুখতে হবে।

আরও পড়তে পারেন: ফাইজারের করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে নরওয়েতে মৃত ২৩, শুরু তদন্ত

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন