তামিলনাড়ুকে কাবেরীর জল দেওয়ার প্রতিবাদে ফুটছে বেঙ্গালুরু-সহ কর্নাটকের বিভিন্ন অংশ। কিছু কন্নড়বাদী সংগঠনের ডাকা বন্‌ধে শুক্রবার জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ল রাজধানী বেঙ্গালুরুতে। বন্ধ ছিল ইনফোসিস, উইপ্রো-সহ ‘হাইটেক সিটি’র প্রায় সব বেসরকারি সংস্থা।  

শুক্রবার বন্‌ধে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। চলেনি সরকারি, বেসরকারি বাস। ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে রাস্তায় নামেনি ট্যাক্সি আর অটোও। এমনকি চলেনি মেট্রোও। দোকানপাট, মল, স্কুল, কলেজ, সরকারি অফিস তো বটেই ধর্মঘট সমর্থনকারীরা এ দিন বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর আর রেল স্টেশনেও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

বেঙ্গালুরুর পাশাপাশি দক্ষিণ কর্নাটকের মাণ্ড্য, মহীশুর, চামরাজনগর, কোলার, তুমকুর আর হাসানও বন্‌ধে স্তব্ধ। অন্যদিকে ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে রাজ্যের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই। পরোক্ষে ধর্মঘটকে সমর্থন করে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিক্ষোভ চলাকালীন কোনও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা চলবে না।

কাবেরী জলবন্টন সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মাণ্ড্য জেলায় অভিনব বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। বিক্ষোভকারী চাষিরা মাথায় পাথর নিয়ে কাবেরী নদীতে নেমে যায়। অন্যদিকে বল্লারিতে তামিলনাড়ুর রেজিস্ট্রেশন থাকা ট্রাকে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে কর্নাটকের চলচ্চিত্রজগত। ৫২টি তামিল চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন সে রাজ্যের কেবল চ্যানেল সরবরাহকারীরা। শুক্রবার নির্ধারিত সূচি মেনে কর্নাটকে মুক্তি পাচ্ছে না তামিল সিনেমাগুলি। নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন বেঙ্গালুরুতে বসবাসকারী প্রায় ৩৫ লক্ষ তামিলভাষী মানুষ। নিরাপত্তার দাবিতে তাঁদের তরফ থেকে শুক্রবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করা হয়।        

অন্যদিকে কর্নাটকের জলাধারগুলিতেও জলের পরিমাণ খুব কম। এটা মনে করিয়ে কর্নাটক সরকার জানিয়েছে, তামিলনাড়ুর জন্য জল ছাড়ার নির্দেশ পরিবর্তন করার জন্য তারা আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here