বেঙ্গালুরু: হাতে কালো ব্যাজ এবং ‘অ্যাই অ্যাম গৌরী’ লেখা প্ল্যাকার্ড। গৌরী হত্যার প্রতিবাদে বেঙ্গালুরুতে মিছিলে হাঁটলেন হাজার হাজার মানুষ। মুক্তমনা চিন্তাবিদ, লেখক, লেখিকার পাশাপাশি মিছিলে হেঁটেছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

শহরের সানগোলি নারায়ণ রেল স্টেশন থেকে মিছিল শুরু হয়। শেষ হয় সেন্ট্রাল কলেজ গ্রাউন্ডে। সেখানে একটি প্রতিবাদসভারও আয়োজন করা হয়। মিছিলে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রায় তিনশো পুলিশকর্মী হাজির ছিলেন।

মিছিল দেখে আপ্লুত হয়ে যান গৌরীর মা ইন্দিরাদেবী। আবেগপ্লুত গলায় মিছিলের অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার কাছে তোমরা সবাই গৌরী।” গৌরীর সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বের স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন আরও এক সমাজকর্মী তিস্তা সেতালভাদ। তাঁর কথায়, “আমরা সমবয়সি। কিন্তু গৌরী সব সময় আমাকে ওর বোন মনে করত। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে এতো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন, এটা দেখে খুব সান্ত্বনা পাচ্ছি।”

তিস্তার কথায়, দেশের যুবসমাজকেই প্রকৃত বিরোধীদল মনে করত গৌরী। তিনি বলেন, “স্বাধীন চিন্তাধারী গৌরী, প্রশ্ন করার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করত। ওর মৃত্যু বিফলে যেতে দেওয়া যাবে না।”

প্রতিবাদমিছিলে শামিল হওয়া লেখক চন্দ্রশেখর পাতিল বলেন, “দু’বছর আগে আমি ছিলাম দাভোলকর, তার পর হলাম পানসারে। তার পর যখন আমার বন্ধু কালবুর্গিকে খুন করা হল, আমি হলাম কালবুর্গি। এখন আমি গৌরী হয়েছি।”

মিছিলে পা মেলান সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও। তাঁর কথায়, “ভারতীয় মূল্যবোধকে রক্ষা করার জন্যই মিছিলে পা মেলাচ্ছি। এর পাশাপাশি মিছিলে হাঁটেন ধর্মীয় সংগঠনের প্রধানও। চিত্রদুর্গের মুরুগান মঠের প্রধান শিবমূর্তি স্বামীজি বলেন, শুধুমাত্র লেখক, বিদ্বোজ্জনেরাই নয়, কর্নাটকের ধর্মীয় গুরুরাও হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন। মেধা পটকরের মতে, মিছিলে এত সংখ্যক মানুষের পা মেলানো খুব ইতিবাচক ব্যাপার।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন