নয়াদিল্লি : রাজ্যসভায় কথা বলতে সুযোগই দেওয়া হল না ভারতরত্ন তথা সাংসদ সচিন তেন্ডুলকরকে। বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর পর এ দিনের সূচি অনুযায়ী খেলাধুলা বিষয়ে বলতে দাঁড়ান সচিন। তাঁর বিষয় ছিল ‘খেলাধুলার অধিকার এবং ভারতে খেলাধুলার ভবিষ্যৎ’। কিন্তু না। লাফিয়ে উঠে অধিবেশন অচল করে দেন কংগ্রেসের সাংসদরা। তাঁদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষমা চাইতে হবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের কাছে। কারণ তিনি মনমোহন সিংহের নামে মিথ্যা রটনা করেছেন।

সাংসদদের গন্ডোগোল করতে দেখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষাও করেন মাস্টার ব্লাস্টার। উত্তেজিত সাংসদরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁরা “প্রধানমন্ত্রী সভা মে আও’’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু বহুবার তাঁদের থামতে বলেন। তিনি বলেন, সচিন এক জন ভারতরত্ন প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব। তাঁকে সম্মান করা উচিত। বলতে দেওয়া উচিত। গোটা দেশ দেখছে এই আচরণ। নিজেদের সংযত করা উচিত।

কিন্তু না। রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুঁড়ির উন্মত্ততায় খুব পরিচিত চিত্রই তুলে ধরলেন তাঁরা। বাধ্য হয়ে নাইডু রাজ্যসভার সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এ দিনের মতো সভা মুলতবি করে দেন তিনি।

 

সভা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর সাংসদ জয়া বচ্চন সাংবাদিকদের বলেন, এটা লজ্জার বিষয়। বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটরকে কথার বলার সুযোগই দেওয়া হল না, অথচ যেখানে সবাই জানতেন এটাই ছিল আজকের সভার আলোচনার বিষয়। তিনি বিরোধীদের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, শুধু কি রাজনীতিকরাই বলতে সুযোগ পাবেন? বাকিদের কি বলার অধিকার নেই?

প্রসঙ্গত, গুজরাটের নির্বাচনের আগে প্রচারে নেমে নমো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ পাকিস্তানের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে আঙুল তুলেছিলেন। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতেই গত সপ্তাহ থেকে কংগ্রেসের সাংসদরা বার বার লোকসভা আর রাজ্যসভার শীতকালীন অধিবেশন অচল করার পথে নেমেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে রাজ্য সভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন সচিন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here