ওয়েবডেস্ক: দরজা খোলাই ছিল, তাই অনুমতি না নিয়েই ঢুকে গিয়েছিল অন্দরমহলে। বাড়িতে তখন উপস্থিত শুধু মহিলারা। তাতে কী? চটি পেটাতে তো আর পুরুষ লাগে না, লাগে পুরুষতন্ত্র আর সামন্ততন্ত্র। যে দু’টোই কিনা বেশ পাকাপোক্ত ভাবে বিদ্যমান নালন্দার সুরেন্দ্র যাদবের পরিবারে। আর তাই না বলে কয়ে পুরুষ মানুষের অবর্তমানে বাড়িতে ঢুকে পড়ার শাস্তি পেতে হল ‘নিচু জাত’-এর মহেশ ঠাকুরকে। কী শাস্তি? প্রথমে কয়েক ঘা জুতো, তার পর জোর করে মাটিতে থুতু ফেলিয়ে সেই থুতুই চাটানো হল ৫৪ বছরের নাপিতকে দিয়ে।

বিহারের নালন্দার এই গ্রামে নাকি বেশ প্রভাব প্রতিপত্তি রয়েছে সুরেন্দ্র যাদবের।  পদবি থেকেই বোঝা যায় তাঁরা ‘উচ্চ বংশ’। তার ওপর সুরেন্দ্রবাবু সরপঞ্চ। এ হেন যাদবদের বাড়িতে বিনা অনুমতিতে নই সম্প্রদায়ের নাপিতের ঢুকে পড়া কি মানায়? যদিও প্রসাশনের কাছে নাকি খবর আছে, বুধবার রাতে যাদবদের বাড়িতে কোনো দুরভিসন্ধি নিয়েই ঢুকেছিল মহেশ। অপরাধের শাস্তি হয় ২৫ ঘা জুতো। স্থানীয় পঞ্চায়েত সভা ডেকে নির্ধারিত হয় শাস্তি। শেষমেশ পাঁচ ঘা জুতোর পর মাটি থেকে নিজের লালা চাটতে হয় ঠাকুরকে।

ঘটনার অমানবিকতা গণমাধ্যমের নজর কাড়ার পর থেকে টনক নড়েছে বিহারের রাজ্য প্রশাসনের। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দু’দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হবে তদন্তের, আশ্বাস দিয়েছে নালন্দা প্রশাসন। রাজ্যের মন্ত্রী নন্দকিশোর যাদব বলেছেন, “এ ধরনের অনাচার সহ্য করা হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে”।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here