তেজস্বী যাদব, নীতীশ কুমার। প্রতীকী ছবি

পটনা: আবারও বিজেপি-র সঙ্গে জোট ভাঙলেন জেডিইউ প্রধান তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের সঙ্গে প্রায় মাসতিনেকের বোঝাপড়াতেই নীতীশের বিজেপি-বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

মাসতিনেক আগে শুরু বোঝাপড়া!

জুনে শেষ হওয়া সবচেয়ে সাম্প্রতিক বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন, তেজস্বী যাদব এবং তাঁর বিধায়করা নীতীশ কুমারের সমালোচনা থেকে দূরে ছিলেন। এমনকী, গত রবিবার মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আরজেডি-র বিক্ষোভ অবস্থানে পুলিশি নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতোই। এমনকী জাতিগত গণনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে বেসুরো নীতীশের পাশেই ছিলেন তেজস্বী।

গত এপ্রিলে প্রায় চার বছর পর লালুপ্রসাদ যাদবের বাড়িতে যান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ। রাবড়িদেবীর বাড়িতে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে দেখা যায় বিশেষ সেই ছবি। দীর্ঘদিন পর লালু পরিবারের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেন নীতীশ। ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন সাংসদ চিরাগ পাসওয়ান এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মুকেশ সাহনিও। শোনা যায়, তখন থেকেই শুরু নীতীশ-তেজস্বী বোঝাপড়া।

কেন এমন সিদ্ধান্ত নীতীশের?

বিজেপি-র সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী হলেও ‘তৃপ্ত’ নন নীতীশ, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। বিজেপি-র উপ-মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়েও তাঁর অস্বস্তি প্রকাশ্যে আসে প্রায়শই। সিংহাসনে বসালেও মাথার উপর ‘বড়দা’র ভূমিকায় বরাবরই বিজেপি। তার উপর খবর, ২০২৫-এ হয়তো নীতীশকে ঝেড়ে ফেলতে পারে বিজেপি। এমন সব দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যেই কয়েক মাস ধরে নিজের এবং নিজের দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি মনোযোগী বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।

তার উপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি সন্দেহজনক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন জেডিইউ। দলের অভিযোগ, ডেজিইউ-তে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছেন শাহ। এই ঘটনায় উঠে এসেছে আরসিপি সিংহের নাম। সপ্তাহান্তে জেডিইউ ছেড়েছেন তিনি। বড়োসড়ো দুর্নীতি-সহ তাঁর বিরুদ্ধে অমিত শাহের পরিকল্পনা মাফিক দলবিরোধী কাজের অভিযোগও তুলেছেন জেডিইউ নেতৃত্ব।

কী বলছে পাটিগণিত?

২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য ম্যাজিক ফিগার ১২২। নীতীশ কুমারের জেডিইউয়ের বিধায়ক সংখ্যা এখন ৪৫।

২০২০ সালের বিধানসভা ভোটে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতেছিল আরজেডি (৭৫)। চলতি বছরের উপনির্বাচনে আরও একটি আসনে জয়ী হতে আরজেডির বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৬। এর পর আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম-এর চার বিধায়ক যোগ দেন আরজেডি-তে। পাটিগণিত বলছে, এখন আরজেডি-র ৮০, কংগ্রেসের ১৯, সিপিআইএমএলএল ১১, সিপিএম ৩ এবং সিপিআই-এর ২ বিধায়ক।

অন্য দিকে, ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ৭৪ জন প্রার্থী জিতেছিলেন। কিন্তু বিকাশশীল ইনসান পার্টির (ভিআইপি) ৩ জন বিধায়কের যোগদানের কারণে তাদের সংখ্যা বেড়ে ৭৭ হয়েছে।

ফলে নীতীশ যদি এ মুহূর্তে তেজস্বীর হাত ধরেন, তা হলে খুব সহজেই টিকিয়ে রাখতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি। কারণ, আরজেডি ও জেডিইউ মিলিয়ে ১২৫ জন বিধায়ক। যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে সামান্য হলেও বেশি।

আরও পড়তে পারেন:

ফের এক বার বিজেপি-র সঙ্গে জোট ভাঙলেন নীতীশ কুমার, শীঘ্রই রাজ্যপালের দরবারে

ফের সিবিআই তলব! হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন না থাকলেও ‘বেড রেস্ট’ দরকার, বলছেন অনুব্রতর চিকিৎসক

যৌনকর্মীদের সমস্ত মৌলিক অধিকার রয়েছে, কিন্তু আইন লঙ্ঘনের জন্য বিশেষ সুবিধা নয়: দিল্লি হাইকোর্ট

যৌনকর্মীদের রেশন, ভোটার আইডি, আধার দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মোদী জমানায় টানা সাত বার, নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে গেল সংসদের অধিবেশন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন