পটনা: গত বার ছিল রুবি রাই, এ বার গণেশ কুমার। সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে বিহারে। বিহারে বারো ক্লাসের বোর্ড পরীক্ষায় কলা বিভাগে শীর্ষ স্থানাধিকারী গণেশ জালিয়াতির দায়ে গ্রেফতার হলেন। তাঁর পরীক্ষার ফলও বাতিল করা হয়েছে।

পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরেই গণেশ টিভি ইন্টারভিউতে রুবিরই মতো নাকানিচোবানি খান। বোর্ড পরীক্ষায় যে ‘মিউজিক’ প্র্যাক্টিক্যালে ৭০-এর মধ্যে ৬৫ পেয়েছেন গণেশ, সেই সংগীত বিষয়ে খুব সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি গণেশ, ঠিক যেমন রুবি গত বছর টিভি ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, পলিটিক্যাল সায়েন্স হল রান্না সংক্রান্ত বিষয়।

তবে গণেশের কেরামতি শুধু টিভি ইন্টারভিউতেই শেষ হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে। বোর্ড চেয়ারম্যান আনন্দ কিশোর জানিয়েছেন, বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ঘোষণামতো তাঁর বয়স ২৪ নয়, ৪২। তিনি দুই সন্তানের পিতা।

টিভি ইন্টারভিউতে গণেশকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, লতা মঙ্গেশকর কে? গণেশ বলেছিলেন, লতা মঙ্গেশকর ‘মৈথিলী কোকিলা’ নামে পরিচিত। আদতে গণেশের স্কুল যে জেলায়, সেই সমস্তিপুরের লোকসংগীত শিল্পী শারদা সিনহা ‘মৈথিলী কোকিলা’ নামে পরিচিত। ‘সুর’, ‘তাল’, ‘মাত্রা’ কী, তা বোঝাতে গণেশ হিমশিম খেয়েছিলেন টিভি ইন্টারভিউতে। প্র্যাক্টিক্যালে কী করেছিলেন জানতে চাওয়া হলে গণেশ বেসুরো গলায় বলিউডের একটি গানের দু’ কলি শোনান।

সমস্তিপুরের ছকহাবিব গ্রামের রামনন্দন সিং জগদীপ নারায়ণ হাইস্কুল থেকে বারো ক্লাসের বোর্ড পরীক্ষা দেন গণেশ এবং ৮২.৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে কলা বিভাগে প্রথম হন। তিনি হিন্দিতে ৯২ শতাংশ, সংগীতে ৮২ শতাংশ পেয়েছেন। স্কুলে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু গণেশকে নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতেই ওই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন