বিলকিস বানো
বিলকিস বানো। প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: বিলকিস বানো গণধর্ষণে অভিযুক্ত ১১ জন মুক্তি পেয়েছে স্বাধীনতা দিবসের দিন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পঞ্চমহলের কালেক্টর সুজল মায়াত্রার নেতৃত্বে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে দোষীদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে গুজরাত সরকার। সর্বসম্মতি ক্রমে কারাবাসের সময় হ্রাসের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় কমিটিতে। জানা গিয়েছে, ১০ সদস্যের ওই কমিটিতে ছিলেন পাঁচ জন বিজেপি নেতা এবং বিধায়ক।

ঘটনায় প্রকাশ, ২০০২ সালের মার্চ মাসে দাহোদ জেলায় লিমখেড়া তালুকায় রাধিকাপুর গ্রামে একদল দুষ্কৃতী বিলকিস বানোর পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছিল। গণধর্ষণ করা হয় বিলকিসকে। তাঁর পরিবারের ৭ জন সদস্যকে খুন করা হয়। এই ঘটনায় ১১ জনের যাবজ্জীবন সাজা হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত যে কমিটির সিদ্ধান্তে দোষীরা মুক্তি পেয়েছে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। দ্য কুইন্ট-এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, কমিটিতে বিজেপি-র তিন নেতা এবং দুই বর্তমান বিধায়ক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ওই কমিটি গঠন সম্পর্কে মন্তব্য করে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম একটি টুইট করেন বৃহস্পতিবার। কার্যত সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যেখানে মুম্বইয়ের একটি বিশেষ সিবিআই আদালতের রায়টি পরে বোম্বে হাইকোর্ট বহাল রেখেছিল।

কমিটির অন্যতম সদস্য

গোধরার বিজেপি বিধায়ক সিকে রাওলজি ছিলেন ওই কমিটির সদস্য। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ‘মোজো স্টোরি’ নামে একটি নিউজ পোর্টালের সঙ্গে কথা বলার সময়, রাওলজি বৃহস্পতিবার বলেন, দোষীরা প্রকৃতপক্ষে অপরাধ করেছে কি না, তা তিনি জানেন না। তবে দোষীরা ব্রাহ্মণ এবং তাই তাঁদের সংস্কার ছিল ভালো। কারণ, ব্রাহ্মণদের সংস্কার ভালো হয়। তাঁদের এ ভাবে জেলে রেখে শাস্তি দেওয়ার পিছনে কারও বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

কমিটির আরেক সদস্য কালোলের বিজেপি বিধায়ক সুমনবেন চৌহান। গুজরাতের পঞ্চমহল জেলার কালোল থেকে ২০১৭ সালে প্রথম বারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। গোধরার প্রাক্তন সাংসদ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী প্রভাতসিংহ চৌহান তাঁর শ্বশুর।

রাওলজি এবং চৌহান ছাড়াও বিজেপির আরও তিনজনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁরা হলেন বিজেপির গোধরা তালুকা ইউনিটের প্রধান সর্দারসিংহ বারিয়া পটেল, গোধরায় বিজেপি মহিলা শাখার সহ-সভানত্রী বিনীতাবেন লেলে এবং বিজেপি-র রাজ্য কার্যনির্বাহী সদস্য পবন সোনি।

কমিটির বাকি চার সদস্য

১. পঞ্চমহল জেলার পুলিশ সুপার, ২. গোধরা জেলের জেল সুপার, ৩. জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক এবং ৪. গোধরা আদালতের দায়রা জজ।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত, সমাজকর্মী মুরলি মুলচন্দানি এবং বিজেপির প্রাক্তন গোধরা পুর কাউন্সিলর এবং বিজেপি মহিলা শাখার একজন কর্মী স্নেহাবেন ভাটিয়া এই উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন।

বিলকিস বানোর প্রতিক্রিয়া

১১ জনের মুক্তির পর বুধবার নিজের প্রথম বিবৃতিতে বিলকিস বানো বলেন, “আমার জীবনকে ধ্বংস করেছে এবং আমার তিন বছরের মেয়েকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। আমি এখনও অসাড়। আজ আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি- কী ভাবে কোনো নারীর জন্য এ ভাবে বিচার শেষ হতে পারে?” তিনি আরও বলেন, “আমি আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আদালতের উপর আস্থা রেখেছিলাম। সিস্টেমের উপর আস্থা রেখেছিলাম। এ ভাবেই আমি ধীরে ধীরে আমার মানসিক ও শারীরিক আঘাত নিয়ে বাঁচতে শিখছিলাম। এই দোষীদের মুক্তি আমার শান্তি কেড়ে নিয়েছে। ন্যায়বিচারের প্রতি আমার বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিয়েছে।”

দোষীদের প্রতিক্রিয়া

১৫ আগস্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ১১ জনের মুক্তি মিলেছে। ওই দিন গোধরা জেলের বাইরে দেখা যায়, জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর তাদের আত্মীয়রা মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন, পায়ে ছুঁয়ে আশীর্বাদও নিচ্ছেন। গুজরাত সরকারের সাজা মকুব নীতিতে সোমবার মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে এসেছে তারা। রাধেশ্যাম শাহ নামে তাদেরই এক জন সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বলেছেন, “আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবার একটি নতুন জীবন শুরু করতে পারব। জেলের বাইরে আসতে পেরে আমি আনন্দিত”।

মানবাধিকার কর্মীদের দাবি

দোষীদের মুক্তির বিরোধিতায় সরব মানবাধিকার কর্মী, ইতিহাসবিদ, আমলা-সহ সমাজের নানা স্তরের প্রায় ছয় হাজার মানুষ।। দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। বিলকিসের অপরাধীদের আগাম মুক্তি দেওয়া ‘ন্যায়বিচারের গুরুতর গর্ভপাত’ বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা। ছ’হাজার মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিচারব্যবস্থার ওপর মহিলাদের আস্থা ফেরানোর দাবি জানাচ্ছি। ১১ জন দোষীর মুক্তির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। পুনরায় তাদের জেলে পাঠানো হোক”।

আরও পড়তে পারেন:

কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে ‘ন্যায় ও শান্তিপূর্ণ’ সমাধান চায় পাকিস্তান, দাবি প্রধানমন্ত্রী শরীফের

নিমেষে ধসে পড়ল মুম্বইয়ের একটি চারতলা বাড়ি, রইল ভিডিও

পরকীয়ার সন্দেহ, স্বামীর গোপনাঙ্গে গরম জল ঢাললেন স্ত্রী!

চিনা অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ কেলেংকারি, সাহায্য করে তদন্তের মুখে একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

ইলিশ ধরতে গিয়ে ট্রলার দুর্ঘটনা, কাকদ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ১৮ মৎস্যজীবী

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন