বিলকিস বানো
বিলকিস বানো। প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: বিলকিস বানো মামলায় (Bilkis Bano case) দোষীদের মুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জমা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। শুক্রবার সেই আবেদনের শুনানির কথা। বিচারপতি অজয় ​​রাস্তোগি এবং বিচারপতি বিভি নাগারত্নের একটি বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করবে।

গত ২৫ আগস্ট এই মামলায় নোটিশ জারি করেছিল প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এনভি রমনার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ। জেল থেকে মুক্তি পাওয়া সব আসামিকে মামলায় পক্ষ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

১১ আসামির অকাল মুক্তি ১৫ আগস্ট

এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামিকে গত ১৫ আগস্ট মাসে মুক্তি দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পঞ্চমহলের কালেক্টর সুজল মায়াত্রার নেতৃত্বে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে দোষীদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে গুজরাত সরকার। সর্বসম্মতি ক্রমে কারাবাসের সময় হ্রাসের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় কমিটিতে।

গত ২০০৮ সালে এই ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। বিলকিস বানোর পরিবারের সদস্যদের ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল তাদের। গুজরাতে সংঘটিত এই অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া মুম্বইয়ের একটি আদালতে স্থানান্তর করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৪ সালে মামলা স্থানান্তরের নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

মুম্বইয়ে বিশেষ সিবিআই আদালত এই ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য ২০০৮ সালের ২১ জানুয়ারি ১১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাদের যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। পরে বোম্বে হাইকোর্ট বিশেষ সিবিআই আদালতের রায় বহাল রাখে।

অকাল মুক্তির আবেদন সুপ্রিম কোর্টে

মামলার এক দোষী সাব্যস্ত নিজের অকাল মুক্তির জন্য আবেদন বিবেচনা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। ১৯৯২ সালের ৯ জুলাইয়ের নীতির অধীনে গুজরাত সরকাররের উদ্দেশে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয় ওই আবেদনে।

চলতি বছরের মে মাসে আসামিদের মুক্তির আবেদনে বিচারপতি অজয় ​​রাস্তোগির নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ বলেছিল, অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল গুজরাতে। বিচার শেষ হওয়ার পরে এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় দিয়েছে আদালত। ফলে আগাম মুক্তির বিষয়ে গুজরাত রাজ্য সরকারের নীতি ও শর্তাবলি প্রযোজ্য। এর পরই দোষী সাব্যস্ত আবেদনকারীর অকাল মুক্তির আবেদন বিবেচনা করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

তীব্র নিন্দা বিভিন্ন মহলের

তবে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিলকিস বানো গণধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত ১১ জনকে মুক্তি দেওয়ার তীব্র নিন্দা করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। দোষীদের মুক্তির বিরোধিতায় সরব হয়েছেন মানবাধিকার কর্মী, ইতিহাসবিদ, আমলা-সহ সমাজের নানা স্তরের প্রায় ছয় হাজার মানুষ। দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। বিলকিসের অপরাধীদের আগাম মুক্তি দেওয়া ‘ন্যায়বিচারের গুরুতর গর্ভপাত’ বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

ঘটনায় প্রকাশ, ২০০২ সালের মার্চ মাসে দাহোদ জেলায় লিমখেড়া তালুকায় রাধিকাপুর গ্রামে বিলকিস বানোর পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছিল একদল দুষ্কৃতী। গণধর্ষণ করা হয় বিলকিসকে। তাঁর পরিবারের ৭ জন সদস্যকে খুন করা হয়।

আরও পড়তে পারেন: 

রতন টাটা-সাইরাস মিস্ত্রির সম্পর্কে চরম তিক্ততা, মুখ খুললেন টাটা সন্সের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের সহযোগী

মোদী-হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, এই ৭টি মউ স্বাক্ষর করল ভারত-বাংলাদেশ

সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন সুরেশ রায়না! তবে মাঠে নামতে পারেন শীঘ্রই, কী ভাবে

বিশ্বে প্রতি চার মিনিটে হাজার শিশুর জন্ম, চিনকে পিছনে ফেলে এগিয়ে ভারত

যে পাঁচ কারণে হেরে গেলেন ঋষি সুনক

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন