রাজনৈতিক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কে বিপিন রাওয়াত, মুখরক্ষায় বিবৃতি সেনার

0

ওয়েবডেস্ক: সেনার কাজ দেশরক্ষা করা, কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে বলা উচিত নয়। কিন্তু ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত সেই দিকে হাঁটেননি। বরং বিজেপি এবং এআইইউডিএফ, দু’টি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্ক বাঁধিয়ে দিলেন। এই বিতর্ক থেকে নিজেদের মুখরক্ষা করতে বিবৃতি দিতে হল সেনাকে।

বুধবার একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “অসমে একটি রাজনৈতিক দল রয়েছে নাম এআইইউডিএফ (অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট)। যদি তাদের উত্থান লক্ষ করেন তা হলে দেখবেন, বিজেপির থেকে দ্রুত গতিতে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছে তারা।”

প্রসঙ্গত অসম এবং উত্তর-পূর্বের মুসলিমদের মূল প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয় বদরুদ্দিন অজমলের এই দলকে। রাওয়াতের এই মন্তব্য রাজনৈতিক হওয়ার পাশাপাশি অনেকটাই ধর্মীয় বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ অসম নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাংলাদেশে থেকে অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গও তুলে আনেন রাওয়াত।

অসমের মুসলিম প্রধান জেলাগুলির ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে রাওয়াত বলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের জন্যই পালটে যাচ্ছে রাজ্যের জনসংখ্যার গতিবিধি। অবশ্য এই অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যে ঢোকানোর পেছনে পাকিস্তান এবং চিনেরই হাত দেখেছেন রাওয়াত।

তাঁর কথায়, “খুব পরিকল্পনামাফিক ভাবেই অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ঢোকানো হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে এটা আমাদের পশ্চিমের প্রতিবেশীর (পাকিস্তান) একটা নকল যুদ্ধ (প্রক্সি ওয়ার)। তাকে সাহায্য করছে আমাদের উত্তরের প্রতিবেশী (চিন)।” অসমে ‘ভালো মানুষ’ এবং ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী মানুষের’ মধ্যে বিভাজন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন রাওয়াত।

রাওয়াতের এই মন্তব্যের পরেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সেনাপ্রধান হয়ে এ রকম ভাবে রাজনৈতিক মন্তব্য করা কখনোই উচিত হয়নি বলে বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর সমালোচনা করা হয়। এর পরেই মুখরক্ষার জন্য বিবৃতি দিতে হয় সেনাকে। তারা জানিয়ে দেয়, “সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য কোনো মতেই রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নয়। শুধুমাত্র উন্নয়নের স্বার্থেই এই মন্তব্য করেছেন তিনি।”

যদিও সেনার এই বিবৃতির পরেও বিতর্ক থামেনি। বদরুদ্দিন অজমল একটি টুইট করে জানিয়েছেন, “জেনারেল রাওয়াত রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন। এটা খুব আশ্চর্যজনক! আমাদের দল গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী। আমরা যদি বিজেপির থেকে দ্রুত হারে বাড়ি তাতে ওঁর সমস্যা কোথায়। বড়ো দলগুলি ব্যর্থ হয় বলেই তো এআইইউডিএফ এবং আপের মতো দলগুলি তৈরি হয়।”

 

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.