সিদ্দারামাইয়াদের চালে কংগ্রেসে ফিরলেন বিদ্রোহীরা, বিজেপির ‘অপারেশন পদ্ম’ ব্যর্থ

দ্বিতীয়বারের মতো ব্যর্থ হল বিজেপির ‘অপারেশন পদ্ম।’

0

বেঙ্গালুরু: বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপির সরকার গড়ার চেষ্টা ফের ব্যর্থ হল কর্নাটকে। কংগ্রেসের প্রতিই আনুগত্য জ্ঞাপন করলেন বিদ্রোহীরা। ফলে দ্বিতীয় বারের মতো ব্যর্থ হল বিজেপির ‘অপারেশন পদ্ম।’

কংগ্রেস থেকে অন্তত ১২-১৫ জন বিধায়ক ভাঙিয়ে নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়ার পরিকল্পনা ছিল বিজেপির। এই কারণে এক দিকে যখন নিজেদের বিধায়কদের গুরগাঁওয়ের একটি রিসর্টে সরিয়ে নিয়েছিলেন ইয়েদিয়ুরাপ্পারা, ঠিক তখনই কংগ্রেসের চার জনকে মুম্বইয়ের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু যখন দেখা যায়, এর পরেও সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় বিধায়ক সংখ্যা ছুঁতে পাচ্ছে না বিজেপি, তখনই এই পরিকল্পনা এ বারের মতো বাতিল করে দেয় তারা।

দলীয় কর্মীদের ইয়েদিয়ুরাপ্পা বলেন, “কংগ্রেস-জেডিএস থেকে অন্তত ১৬ জন বিধায়ককে বিজেপিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। কিন্তু এর মধ্যে অন্তত ১২ জন প্রথমে বিজেপিতে চলে আসতে রাজি হলেও, পরে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছেন। এই কারণেই আপাতত এই পরিকল্পনা আমরা বাতিল করছি।”

আরও পড়ুন অমিত শাহের অসুস্থতায় রাজ্যে বিজেপির কর্মসূচি কি বহাল থাকবে?

এর পর রীতিমতো উচ্ছ্বসিত কর্নাটকের কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপাল বলেন, “অপারেশন পদ্ম ব্যর্থ হল। বিজেপি বেআইনি ভাবে ক্ষমতা দেখলের চেষ্টা করছিল। তাদের গালে সপাটে থাপ্পড় পড়ল।”

কী ভাবে বিদ্রোহী বিধায়কদের নিজেদের দিকে নিয়ে এল কংগ্রেস-জেডিএস?

বিজেপির ‘অপারেশন পদ্ম’-এর চালে মঙ্গলবার পর্যন্ত ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু সেই পরিস্থিতি হঠাৎ করে বদলে যায় বুধবার। বিদ্রোহীদের বোঝানোর জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করে মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী এবং কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া। সিদ্দারামাইয়া ছাড়াও এমবি পাতিল, ডিকে শিবকুমার-সহ আরও কয়েক জন শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন কুমারস্বামী। তার পরেই বিদ্রোহীদের বোঝানোর চেষ্টা শুরু করা হয়।

প্রথমেই তাদের বলে দেওয়া হয়, এই ভাবে ক্ষমতা দখল করতে গেলে বিজেপিকে আইনি জাঁতাকলে পড়তে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের একূল-ওকূল দু’ই কুলি যাবে।

সেই সঙ্গে এ-ও আশ্বাস দেওয়া হয় যে নিজেদের বিধানসভা কেন্দ্রে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদেরই থাকবে। কোনো মন্ত্রী সেই সিদ্ধান্তে নাক গলাবেন না। এক কংগ্রেস নেতা এই প্রসঙ্গে বলেন, “মন্ত্রীসভার সদস্য হওয়াই ছিল এই বিধায়কদের মূল দাবি। আমরা তাঁদের সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছি।”

এর পরেই অন্তত চার জন কংগ্রেস বিধায়ক প্রকাশ্যে এসে জানিয়ে দেন, বিজেপির তরফ থেকে বারবার লোভ দেখানো হলেও, দলবদলের কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা নেবেন না।

তবে এখনও তিন জন বিদ্রোহী নিয়ে কিছুটা চাপে রয়েছে কংগ্রেস। এঁদের মধ্যে রয়েছেন পুরো ব্যাপারটার মাস্টারমাইন্ড রমেশ জারকোলি। প্রবীণ এই বিধায়কের এ বার মন্ত্রীসভায় স্থান না হওয়া থেকেই ক্ষুব্ধ তিনি। তিনি এবং আরও দু’জন কী করবেন এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তবে সূত্রের খবর, কংগ্রেসে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।

সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটের আগে আপাতত টিকে গেল কর্নাটক সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.