mukul roy rahul sinha

কলকাতা: বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে কি সংবাদ মাধ্যমের অদৃশ্য আঁতাঁত হয়েছে? এমন প্রশ্নই উঁকি মারছে বিজেপির অন্দর মহলে। তা না হলে কেন্দ্রীয় সরকারের চার বছরের সাফল্যের খতিয়ানকে সামনে রেখে ‘সম্পর্ক ফর সমর্থন’ বা সমর্থনের জন্য সম্পর্ক অভিযানে কেন এতটা ব্যর্থ হতে হচ্ছে বিজেপিকে?

প্রায় এক পক্ষকাল ধরে সারা দেশে চলছে বিজেপির এই সম্পর্ক অভিযান। বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ সূচনা করেন এই কর্মসূচির। রাজ্যস্তরে বিজেপি স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযানের শরিক হচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিরূপ সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বাইরের ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে মিলেছে তীব্র সমালোচনা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় গোয়েল দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমামের সামনে গিয়ে শুনেছেন ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’ নিয়ে কঠিন মন্তব্য। আবার অমিত নিজেও সুরসাম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েও দেখা পাননি। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে লতা দেখা করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন মুম্বইয়ে তাঁর বাড়ির দোরগড়ায় পৌঁছনো অমিতকে।

একই অবস্থা বঙ্গ-বিজেপিরও। বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে নোটবন্দির বাক্যবাণে মুখ লাল হয়েছে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার। অন্য দিকে প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্ব মনোজ মিত্রের বাড়ি গিয়েও রাজনৈতিক কোনো কথার খাপই খুলতে পারেননি মুকুল রায়। অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তো মুকুলবাবুকে স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, “আমার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। আমার বাড়িতে কে আসবেন”?

আর সমস্ত ‘নেতিবাচক’ খবরই জাতীয় থেকে আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে ফলাও করে প্রকাশ করা হচ্ছে। বিদ্বজ্জনরা যে বিজেপিকে কোনো মতেই সহ্য করতে পারছেন না, সে সব তথ্যই তুলে ধরা হচ্ছে সর্বভারতীয় স্তরে। এ বিষয়টি থেকেই বিজেপির একাংশের অনুমান, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের একটা অংশের আঁতাঁত রয়েছে। ফলে কী ভাবে এর মোকাবিলা করা যাবে, তা নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here