বিধানসভা ভোটের ১৪ মাস পর আরও একটি রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে চলেছে বিজেপি!

0
ফাইল ছবি

বেঙ্গালুরু: সব কিছু ঠিকঠাক চললে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই আস্থাভোট হওয়ার কথা কর্নাটকে। কিন্তু এ দিনই সুপ্রিম কোর্ট বিদ্রোহী দুই বিধায়কের দায়ের করা মামলার শুনানি এক দিন পিছিয়ে দেওয়ায়, সেই সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিয়েছে, তাতে বেশ স্পষ্ট, কর্নাটকের দখল ধরে রাখা কুমারস্বামীর কাছে বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অবস্থায় সরকার গঠনের যাবতীয় তোড়জোড় জারি রেখেছে বর্তমানে বিরোধী দল বিজেপি।

আপডেট পড়ুন: আস্থাভোটে মাত্র ৬ ভোটে হেরে গেলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী!

গত ২০১৮ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত হয় কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচন। অনেক টালবাহানা এবং নাটকীয়তায় মোড়া ঘটনাপ্রবাহের পর রাজ্যের ক্ষমতা দখল করে কংগ্রেস-জেডিএস জোট। সম্প্রতি প্রায় দেড় ডজনের বেশি বিধায়কের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে আস্থাভোটের মুখোমুখি এইচ ডি কুমারস্বামী সরকার। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে জোটের পক্ষে সরকার টিকিয়ে রাখা সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্য দিকে বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদ্দিয়ুরাপ্পা ঘুটি সাজিয়ে ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর তখ্‌তে বসতে ‘রেডি’।

সময় পেরিয়ে গিয়েছে কিন্তু কিছুতেই বিদ্রোহী বিধায়কদের মানানো যায়নি। তাঁরা এখনও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। ফলে মঙ্গলবারই কর্নাটকে আস্থাভোট হয়ে গেলে সরকার যে পড়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এ দিন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে ফের টানাপোড়েন শুরু হল। দুই বিদ্রোহী বিধায়কের দায়ের করা মামলার শুনানি আগামী বুধবার পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বেঞ্চ এ দিন এই নির্দেশ দেয়। স্বাভাবিক ভাবেই সুপ্রিম কোর্টের এই শুনানির দিকে তাকিয়েই মঙ্গলবার আস্থাভোট পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার আস্থা ভোটের নাটক শুরু হয়েছিল কর্নাটক বিধানসভায়। সে দিন সন্ধ্যার পর স্পিকার রমেশ কুমার অধিবেশন মুলতুবি করার ফলে সেই নাটক শুক্রবারে গড়ায়। এ দিকে বিরোধী বিজেপি চাইছিল বৃহস্পতিবারই আস্থাভোটের পালা চুকিয়ে নিতে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় সে দিন রাতে বিধানসভায় ধরনা দেয় বিজেপি নেতৃত্ব। এ দিকে শুক্রবারের মধ্যে আস্থাভোট করে নেওয়ার জন্য দু’টি সময়সীমা বেঁধে দেন রাজ্যপাল বজুভাই বালা। কিন্তু সেই নির্দেশিকায় কর্ণপাত করার কোনো প্রয়োজনই মনে করেননি স্পিকার। ফলে সে দিনও অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। আর তাই সোমবার দিনটা কর্নাটকের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

হাতে দু’দিন পেয়ে কংগ্রেস এবং জেডিএস নেতৃত্ব ভেবেছিল বিদ্রোহীদের মানিয়ে নেওয়ার শেষ চেষ্টা করা হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী বদল করার নতুন একটি প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল ওই বিধায়কদের কাছে। কিন্তু তার পরেও তাঁরা জানিয়ে দেন কোনো ভাবেই বিধানসভায় হাজির হবেন না তাঁরা।

বিদ্রোহীরা অধিবেশনে না থাকলে কংগ্রেস-জেডিএসের ১০০ আসনে নেমে আসবে। আর বিজেপির থাকবে ১০৫। দু’জন নির্দল বিধায়কও বিজেপিকে সমর্থন করার ঘোষণা করেছেন। ফলে বিজেপির পক্ষে সংখ্যাটা হবে ১০৭। এই হিসেবে আস্থাভোটে কী হবে সেটা তো সহজেই অনুমেয়।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here