rajasthan madhyapradesh chattiagarh

ওয়েবডেস্ক: বছর ঘোরার আগেই গোবলয়ে তিন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সামনের বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে এটাই ঘোষিত সেমিফাইনাল। তিন রাজ্যেই শাসক বিজেপি। তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার হাওয়া, রয়েছে দলীয় কোন্দলও। কিন্তু সেই সব উপেক্ষা করে এই তিন মুখ্যমন্ত্রীর ওপরেই ভরসা রাখছে বিজেপি।

এই তিন জন হলেন রাজস্থানের বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, মধ্যপ্রদেশের শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং ছত্তীসগঢ়ের রমন সিংহ। এই বছরের গোড়ার দিকে রাজস্থানের দু’টি লোকসভা এবং একটি বিধানসভা উপনির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিজেপির। এই নির্বাচনের ফল জানান দিয়ে দেয় রাজস্থানে বিজেপির এখন দুঃসময়। তার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে বসুন্ধরাকে সরানোর জন্য দরবার করতে শুরু করে রাজ্য বিজেপির একটা বড়ো অংশ।

বসুন্ধরা বেঁচে গেলেও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রোষে পড়ে যান তাঁর খুব কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত অশোক পরনামি। রাজ্য বিজেপির প্রধানের পদ থেকে সরানো হয় তাঁকে। এই জায়গায় এখনও পর্যন্ত নতুন কাউকে বসায়নি বিজেপি। শোনা যায়, বসুন্ধরা এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের মধ্যে বিবাদের জেরেই রাজস্থানে এখন কোনো বিজেপি প্রধান নেই।

ঠিক তেমনই সাম্প্রতিক কোলারস এবং মুঙ্গোলি বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির হারের পরেই শিবরাজকে সরানোরও একটা হাওয়া উঠেছিল মধ্যপ্রদেশ বিজেপির অন্দরে। রাজস্থানের মতো, সে যাত্রায় শিবরাজ পার পেয়ে গেলেও কোপে পড়েন তাঁর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত রাজ্য সভাপতি নন্দকুমার চৌহান। মধ্যপ্রদেশে এখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েছে জবলপুরের সাংসদ রাকেশ সিংহ।

তবে শিবরাজকে সরানোর দাবি না মানার পেছনে অন্য একটি কারণ রয়েছে, সেটা ব্যক্ত করে বিজেপির এক নেতা। তিনি বলেন, “বিজেপির খুব বড়ো ওবিসি মুখ শিবরাজ। কোনো ভাবেই তাঁকে সরানো যাবে না।” ঠিক তেমনই রমন সিংহকেও সরানোর দাবি তুলেছিল ছত্তীসগঢ় বিজেপি। তবে এর পেছনে কোনো নির্বাচনী কারণ ছিল না। অদিবাসী অধ্যুষিত রাজ্য হলেও ছত্তীসগঢ়ের চিকিৎসক মুখ্যমন্ত্রী একজন অনাদিবাসী। আদিবাসীদের মন পেতে গেলে একজন আদিবাসীকেই মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষে রায় দিয়েছিল রাজ্য বিজেপির একটা বড়ো অংশ।

তবে এই সব দাবিই গুদামে পাঠিয়ে দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপির এক নেতার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী বদলের কথা কেউ ভাবছেই না। তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নেতৃত্বেই নির্বাচনে পা রাখবে বিজেপি।”

তবে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, এই তিন রাজ্যে, বিশেষত রাজস্থানে বিজেপির অবস্থা বেশ শোচনীয়। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত যদি নেওয়া হয়, তা হলে তাদের আরও খারাপ বই ভালো হবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here