modi mufti

ওযেবডেস্ক: এ রকম যে কিছু একটা হতে পারে আন্দাজ করা যাচ্ছিল। অবশেষে কাশ্মীরের জোট সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি। মঙ্গলবার দিল্লিতে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান রাম মাধব।

মঙ্গলবার কাশ্মীরের বিজেপির সব মন্ত্রীকে ডেকে পাঠান বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। সেই বৈঠকের পরেই সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাম মাধব এ দিন বলে, “পিডিপির সঙ্গে জোটে থাকা বিজেপির পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না।” বিজেপির সমর্থন তুলে নেওয়ার কারণ হল কাশ্মীরে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে পিডিপির সঙ্গে তীব্র মতান্তর।

বিজেপি চাইছিল সংঘর্ষবিরতি প্রত্যাহার করতে। এ বিষয়ে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। তিনি বলেন, রাজ্যের উন্নয়নে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ বরাদ্দ করা হয়েছে। তবুও হিংসাত্মক জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েই চলেছে। তাঁর মনে, সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ থাকার দরুণ জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে। এর পরই বিজেপি বিধায়করা সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের উদ্যোগী হন।

অন্য দিকে বিজেপির এই মতের সঙ্গে সহমত পোষণ করছে না পিডিপি। মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি সংঘর্ষবিরতির পক্ষে। মেহবুবা চাইছিলেন, সংঘর্ষবিরতি অব্যাহত থাকুক। তাঁর মতে, কেন্দ্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিক, কিন্তু সাধারণ নাগরিক জীবনে যেন অযথা আতঙ্ক না ছড়ায়। দীর্ঘ এই টানাপোড়েনের পরই তাঁর সঙ্গে আর পথচলা সম্ভব নয় বলেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল বিজেপি।

এ মুহূর্তে সে রাজ্যে বিজেপি ও পিডিপির বিধায়ক সংখ্যা যথাক্রমে ২৫ এবং ২৮। ৮৭+২ (মনোনীত) সদস্য সংখ্যার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে হলে প্রয়োজন ৪৫ জন বিধায়কের সমর্থন। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি সমর্থন তুলে নেওয়ায় রাজ্যের শাসন ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতেই চলে গেল। পরিস্থিতি যে দিকে গড়াচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।

বিজেপি ও পিডিপি বাদে কাশ্মীর বিধানসভায় ন্যাশনাল কনফারেন্সের ১৫, কংগ্রেসের ১২ এবং সিপিআইএমের একজন বিধায়ক রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here