kerala
ছবি: দ্য লজিক্যাল ইন্ডিয়ান থেকে

ওয়েবডেস্ক:  উত্তর-পূর্ব থেকে অন্নসংস্থানে কেরলে যাওয়া বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গত সপ্তাহে, ৩০ জুলাই কেরলের এরনাকুলাম জেলার পেরুমবাভুরে এক ২১ বছরের ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় এক বাঙালি শ্রমিকের নাম জড়িয়ে যাওয়ার পরই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তারপরই অসমে নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পর স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বিতাড়নের হুমকি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এ ভাবে চলতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে সামাজিক সম্প্রীতি যে বিনষ্ট হতে পারে, তেমনটাই আশঙ্কা করছেন সমাজকর্মীরা।

কেরলে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কে সুদর্শন দাবি করেছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সে রাজ্যে শ্রমিক হিসাবে কাজ করছেন। অবিলম্বে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে তা ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। তাঁর যুক্তি, হাজার হাজার বাংলাদেশি ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে কেরলে রয়েছেন। তাঁরা সমাজবিরোধী ও দেশদ্রোহী কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এঁদের অনেকেই রেশন কার্ড এবং ভোটার তালিকায় নাম তুলে নিয়ে নির্বিঘ্নে কেরলে বসবাস করছেন। তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেন, যত দ্রুত সম্ভব এঁদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হোক।

গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে সুদর্শন জানান, অসমে যে ভাবে নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করা হয়েছে, দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে কয়েক লক্ষ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর হদিশ মিলবে।

আরও পড়ুন: নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ঢাকাকে অবহিত রেখেছিল দিল্লি, ‘ফেরত পাঠানো’র প্রসঙ্গই ওঠেনি

মূলত পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, অসম এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকেরা কেরলে কাজের সন্ধানে যান। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জীবীকা-র ফাদার শিন কুল্লাঙ্গাল বলেছেন, সমাজের নিম্নবিত্তশ্রেণির মানুষ কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে আসেন। তবে পরিযায়ী শ্রমিকদের সবাই যে  অনুপ্রবেশকারী, তা মোটেও ঠিক নয়। বেশ কয়েক বছর আগে কেরল পুলিশ সাতজন পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ পায়নি।

অন্য দিকে বিশিষ্ট সমাজকর্মী তথা অধ্যাপক এন পি হাফিজ মহম্মদ মনে করেন, বিজেপি নেতার এমন মন্তব্য পরিযায়ী শ্রমিকদের মনে আতঙ্ক বাড়াতে যথেষ্ট। আগামী লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ইস্যুকে তুলে ধরতে চাইছে। এর নেপথ্যে রয়েছে ধর্মীয় তাস!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন