খবর অনলাইন ডেস্ক: জানুয়ারিতে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কোভিড টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে তাঁদের জন্য যদি ঘরে ঘরে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো, তা হলে সুপরিচিত ব্যক্তি-সহ অনেকের জীবন বাঁচানো যেত। বুধবার বোম্বে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে এমনটাই জানানো হল।

প্রধান বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জিএস কুলকার্নির একটি বেঞ্চ কেন্দ্রের উদ্দেশে বলে, যখন টিকা কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে প্রবীণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন কেন ঘরে ঘরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয় না। এই বেঞ্চটি আইনজীহী ধ্রুতি কাপাডিয়া এবং আইনজীবী কুনাল তিওয়ারির করা জনস্বার্থ মামলার শুনানি করছিল।

Loading videos...

জনস্বার্থ মামলার আবেদনটিতে বলা হয়েছিল, ৭৫ বছরের বেশি প্রবীণ নাগরিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং শয্যাশায়ী অথবা হুইলচেয়ার সীমাবদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য বাড়িতে গিয়ে টিকাকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট ২২ এপ্রিলের একটি আদেশের পুনরাবৃত্তি করে। যেখানে বাড়িতে গিয়ে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছিল। হাইকোর্টের কথায়, “তিন সপ্তাহ কেটে গিয়েছে এবং সরকার (কেন্দ্র) এখন তার সিদ্ধান্ত অবহিত করতে হবে।”

বিশ্বের অনেক দেশ ঘরে-ঘরে টিকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এই বিষয়টি উল্লেখ করে উচ্চ আদালতের তরফে ২৯ মে-র হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

টিকাকেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে প্রবীণ নাগরিকদের। কাউকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতেও দেখা যাচ্ছে। যা অত্যন্ত দু:খজনক। বিচারপতি কুলকার্নি বলেন, “ঘরে ঘরে টিকা দেওয়া হলে সুপরিচিত ব্যক্তি-সহ অনেক প্রবীণ নাগরিকের জীবন বাঁচানো যেত”।

পুরসভার পক্ষ থেকে মুম্বইয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকা দেওয়ার শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিচারপতি দত্ত বলেন, যাঁরা বাড়ি থেকে বেরোতে পারেন না, তাঁদের চিহ্নিত করা যেতে পারে। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে টিকা দিতে পারেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তবে সব কিছুর মূলেই রয়েছে পর্যাপ্ত টিকার জোগান। এ বিষয়ে অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল অনিল সিং আদালতকে বলেন, ‘কোভিশিল্ড’ ভ্যাকসিন আগামী কয়েকদিনে পাওয়া যাবে। গৃহহীন মানুষ, ভিখারি ও রাস্তায় বসবাসকারী লোকদের টিকা দেওয়ার কী পরিকল্পনা রয়েছে, সে বিষয়েও বৃহন্মুম্বই পুরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে জানতে চেয়েছিল আদালত।

আরও পড়তে পারেন: কোভিডের কারণে পোলিং অফিসারের মৃত্যু হলে কমপক্ষে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.