ওয়েবডেস্ক: এক দিন আগেই পাকিস্তান সফরে গিয়ে সে দেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন তিনি। সৌদি আরবের সেই যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনকে উষ্ণ অভ্যর্থনায় ভরিয়ে দিল ভারত।

দু’ দিনের ভারত সফরে মঙ্গলবার রাতে নয়াদিল্লি এলেন সৌদি যুবরাজ। প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে উষ্ণ আলিঙ্গনে ভরিয়ে তুললেন। এই নিয়ে মোদীর আমলে ন’ বার এই প্রোটোকল ভাঙা হল।

এর আগে যাঁদের ক্ষেত্রে প্রোটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, তাঁরা হলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানইয়াহু, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, সঞ্জুক্ত আরব আমিরশাহির যুবরাজ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (দু’ বার), বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লা এবং ফরাসি এমানুয়েল মাকরঁ।

আরও পড়ুন মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে ফ্রান্স

একটি টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, সৌদি যুবরাজকে “অভ্যর্থনা জানিয়ে ভারত উল্লসিত”।

সলমনের আগমনের পর বিদেশ দফতরের মুখপাত্র রবীশ কুমার টুইট করে বলেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়। ভারতে সৌদি যুবরাজের প্রথম সফর। প্রোটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী নিজে বিমানবন্দরে গেলেন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদকে স্বাগত জানাতে।”

পুলওয়ামা ঘটনার আবহে ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে ইমরানের উষ্ণ অভ্যর্থনায় মুগ্ধ হন সৌদি যুবরাজ। পরিবর্তে ২ হাজার মার্কিন ডলার উপঢৌকন দেওয়া হয় পাকিস্তানকে। সন্ত্রাস দমন ইস্যুতে পাকিস্তানের সক্রিয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে সলমন বলেছিলেন, ”দু’দেশই সন্ত্রাসবাদ সমস্যায় জর্জরিত। শান্তিপূর্ণভাবে মতানৈক্য দূরে সরিয়ে মোকাবিলা করতে হবে”।

ইসলামাবাদে সৌদি যুবরাজ বলেছিলেন, “রাষ্ট্রপুঞ্জের যে তালিকা আছে তা নিয়ে রাজনীতি করা” এড়িয়ে যেতে হবে। জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী’র তালিকায় ঢোকানোর যে চেষ্টা ভারত করছে, সৌদি যুবরাজ ঠারেঠোরে তারই উল্লেখ করেছিলেন।

আরও পড়ুন মাসুদ আজহার কোথায় আছে, জানিয়ে দিলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

যুবরাজ সলমন দু’দিনের ভারত সফরে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, উপররাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে দু’দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৭৪৮ কোটি ডলার। মোদীর আমলে এই ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করেন বহু অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here