নয়াদিল্লি : একটি ব্রিজ কোর্স করেই হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরাও অ্যালোপ্যাথির চিকিৎসা করতে পারবেন। এই মর্মে লোকসভায় শুক্রবার পেশ করা হয়েছে ‘দ্য ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল, ২০১৭’। এই বিলের হাত ধরে চিকিৎসা বিষয়ক পঠনপাঠন নিয়ন্ত্রণকারী ‘মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া’-র জায়গায় একটি নতুন সংস্থা তৈরির পথে হাঁটছে কেন্দ্র। কিন্তু এই বিলের বিরোধিতা করছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি এই ব্যবস্থা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করবে। এই বিল অচিকিৎসক গোষ্ঠী ও আমলাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে। সংস্থার প্রেসিডেন্ট কে কে অগ্রবাল বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন থাকাটা জরুরি। কিন্তু এই ব্যবস্থা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করবে।

বিলের ৪৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, চিকিৎসার উন্নতির স্বার্থে বছরে অন্তত একবার  ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন, সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব হোমিওপ্যাথি, সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ান মেডিসিনের এক সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। এতে হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক আর অ্যালোপেথির মধ্যে একটা যোগসূত্র তৈরি হবে।

আরও বলা হয়েছে, এই আলোচনায় সকলের সম্মতিক্রমে চিকিৎসার বিভিন্ন বিভাগের পড়াশোনা, ব্রিজকোর্স ইত্যাদির উন্নতির স্বার্থে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। পঠনপাঠনের জন্য নির্দিষ্ট পাঠ্যসূচি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

সর্বসম্মতিক্রমে, প্রয়োজন ভিত্তিতে হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরাও যাতে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ লিখতে পারেন তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে একটা সাধারণ প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে হবে। তার পরই পেশাদারিত্বের সার্টিফিকেট মিলবে। সংসদে বিল পাশ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।

এই কমিশনে সরকার নিযুক্ত এক জন চেয়ারম্যান-সহ মোট ২৫ জন সদস্য থাকবেন। এঁরা নিযুক্ত হবেন ক্যাবিনেট সেক্রেটারির অধীনে গঠিত একটি সার্চ কমিটির দ্বারা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here