ওয়েবডেস্ক: শতবর্ষপূর্তির প্রাক্কালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের দাবি ছিল, ভারতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য ‘দুঃখ প্রকাশেই’ নিজেকে আবদ্ধ রাখলেন। আগেও এ নিয়ে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ২০১৩ সালে ভারত সফরে এসে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডকে ব্রিটিশ ইতিহাসে এক নিদারুণ লজ্জাজনক ঘটনা বলে বর্ণনা করেছিলেন।

বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন’ খুলতেই জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন আসে। এই ঘটনাকে ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে ‘যন্ত্রণাদায়ক দৃষ্টান্ত’ আখ্যা দিয়ে রানি এলিজাবেথ যে মন্তব্য করেছেন, তা উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী মে বলেন, “যা ঘটেছিল এবং যে দুর্দশা হয়েছিল তার জন্য আমরা গভীর ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

এর আগে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এক বিতর্কে যোগ দিয়ে দলমত নির্বিশেষে বহু এমপি জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেন।

মঙ্গলবার বিদেশমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড এমপিদের বলেছিলেন, তিনি মনে করেন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড নিয়ে এর আগেও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এ বার ব্রিটেনের পক্ষে তার চেয়েও বেশি কিছু করার মতো ‘দৃঢ় এবং অমোঘ’ কারণ রয়েছে।

আরও পড়ুন জঙ্গিগোষ্ঠী তৈরি করেছিল পাকিস্তান সেনা: ইমরান খান

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডকে “ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে কলঙ্কজনক ক্ষতচিহ্ন” বলে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মন্তব্য করার পর লেবার পার্টি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে “পূর্ণ, স্পষ্ট এবং নিঃশর্ত ক্ষমা” দাবি করেন। অনেকেই আশা করেছিলেন, এ বার ব্রিটিশ সরকার সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হল না।

“জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারত এবং ভারতে শিকড় রয়েছে এমন ব্রিটেনবাসীর মনে যে স্থায়ী ব্যথা রয়েছে” তার উল্লেখ করে ৮০ জন এমপি বিদেশ সচিব জেরেমি হান্টের কাছে চিঠি লিখে এ ব্যাপারে ভারতের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন।

মঙ্গলবার বিতর্কে যোগ দিয়ে ব্রিটিশ এমপিরা বলেছিলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসাবে “জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডে যারা নিহত হয়েছিল তাদের পরিবারবর্গের কাছে ব্রিটেনের ক্ষমা চাওয়া উচিত। বিতর্ক শুরু করে কনজারভেটিভ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান বলেন, “এই ঘটনা ভারত কোনো দিন ভুলবে না।”

অন্য এমপিরা বলেন, ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের অত্যাচার ও অন্ধকারময় দিকগুলি সম্পর্কে স্কুলগুলিতে পাঠ দেওয়া উচিত যাতে এ দেশের ছোটোরা বুঝতে পারে তারা কোথা থেকে এসেছে এবং আজ তাদের দেশ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here