৩৫ বছর বিএসএফ-এ কর্মরত জওয়ান ও তাঁর স্ত্রীকে ‘বিদেশি’ তকমা অসমে

0
foreigners' tribunal jorhat
বিদেশি ট্রাইব্যুনাল, যোরহাট। ছবি সৌজন্যে এনডিটিভি ডট কম।

নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: প্রাক্তন সেনা অফিসার মহম্মদ সানাউল্লাহের পর আবার! সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেকটরকে অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল (এফটি) একতরফা ভাবে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করেছে। অসমের যোরহাট জেলার অধিবাসী মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীকে ‘বিদেশি’ তকমা দেওয়া হলেও, তাঁর বাবা-মা, ভাইবোন, সন্তানসন্ততিকে ভারতীয় বলে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

গোলাঘাট জেলার মেরাপানি উদয়পুর মিকিরপট্টির মুজিবুর রহমান এখন পঞ্জাবে কর্মরত। মুজিবুর ও তাঁর স্ত্রীকে ‘বিদেশি’ তকমা দেওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা। বাবা বলেন, “৩৫ বছর ধরে বিএসএফ-এ জওয়ান হিসেবে কর্মরত মুজিবুর। পরিবারের বাকিরা যখন ভারতীয় হিসাবে তালিকাভুক্ত হল, তখন ও কী ভাবে ‘বিদেশি’ হয়ে গেল বুঝতে পারছি না। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য আমি সরকারকে অনুরোধ করছি।”

আরও পড়ুন সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ মিলল পি চিদাম্বরমের

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে যখন মুজিবুর ছুটিতে বাড়িতে আসেন, তখনই বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে রিপোর্ট দাখিল করার ক্ষেত্রে অসম পুলিশের সীমান্ত শাখা ‘এক মদ্যপের জবানীর’ ওপর আস্থা রেখেছে।

তদানীন্তন পাকিস্তানিদের অনুপ্রবেশ আটকানোর জন্য ১৯৬২ সালে অসম পুলিশের সীমান্ত শাখা তৈরি করা হয়। এরা এখন ‘বিদেশি’দের চিহ্নিত ও বিতাড়নের দায়িত্বে রয়েছে। এই সীমান্ত শাখা ‘বিদেশি’ বলে যাদের চিহ্নিত করে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল।

মুজিবুর রহমান বলেন, “১৯২৩ সালের জমির দলিল রয়েছে তাঁদের। এক মদ্যপ যা বলল তার ভিত্তিতে একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিককে বিদেশি বানিয়ে ফেলা হল। ব্যাপারটা খুবই দুঃখের। আমার পরিবার ট্রাইব্যুনালের নোটিশ পায়নি। আমি যখন কাজে বাইরে ছিলাম আমাদের গ্রামের প্রধানও ব্যাপারটা আমাকে জানাননি।”       

রাজ্যের বিদেশি শনাক্তকরণ ট্রাইবুনালগুলো এ ধরনের কাজকারবার দীঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, যে এ ভাবে একপক্ষীয় ভাবে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা বহু লোকই ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের এ হেন রায়ের বিষয়ে অবগত হন না। উল্লেখ্য, মুজিবুরের ক্ষেত্রেও তাঁর অগোচরেই এফটি তাঁর সম্পর্কে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। মুজিবুরের মতো বহু লোককে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে না দিয়ে একতরফা বিদেশি সাজিয়ে বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে যোরহাটের বিভিন্ন ট্রাইবুনালে প্রায় ১৯ হাজার এ ধরনের মামলা রয়েছে।

ইতিমধ্যে মুজিবুর রহমানের মতো দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থায় নিয়োজিত একজন ভারতীয় নাগরিককে এ ভাবে বিদেশি সাজানোয় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এফটি-র রায়কে চ্যালেঞ্জে জানিয়ে মুজিবুরের আইনজীবী গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এর আগে গত মে মাসে কারগিল যুদ্ধের সৈনিক প্রাক্তন সেনা অফিসার মহম্মদ সানাউল্লাহকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করে  তাকে গোয়ালপাড়ার ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। গৌহাটি হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করার পর তিনি ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্তি পান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here