সুখবর বিএসএনএলে, পিছোচ্ছে ধর্মঘট

0
BSNL
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)-এর কর্মচারীদের বকেয়া বেতন আগামী বুধবারের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলল। সংস্থারচেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর পি কে পুরওয়ার বৃহস্পতিবার এই প্রতিশ্রুতি দেন।

সংস্থার কর্মচারী সংগঠন বৃহস্পতিবার অল ইউনিয়নস্ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনস অব বিএসএনএল (এইউএবি)-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বকেয়া বেতন মেটানো সম্পর্কিত এই প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, দিওয়ালির আগেই ওই বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে।

পুরওয়ার বলেছেন, দিওয়ালির আগে বিএসএনএলের ১.৭৬ লক্ষ কর্মচারীর সেপ্টেম্বরের পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে রয়েছে সংস্থাটি। তিনি বলেন, “আমাদের নিজস্ব অর্থ সংগ্রহ থেকে” দেওয়ালির আগে ৮৫০ কোটি টাকার পে-আউট দেওয়া হবে।

বকেয়া বেতন-সহ একাধিক দাবিতে শুক্রবার থেকে অনশন ধৰ্মঘটে বসার কর্মসূচি নিয়েছিল এইউএবি। সেই কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ জানান পুরওয়ার। তিনি বলেন, সংস্থার পুনরুজ্জীবন প্যাকেজ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আগামী সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফলে সে দিকে নজর রেখেই সংগঠন যেন অনশন ধর্মঘট পিছিয়ে দেয়।

এইউএবি আহ্বায়ক পি অভিমন্যু জানিয়েছেন, পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আগামী ৩০ অক্টোবর এইউএবি বৈঠকে বসবে। আগামী কর্মসূচি নিয়ে সেখানেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বিএসএনএল প্রতি মাসে ১,৬০০ কোটি টাকা আয় করে, এর একটি বড়ো অংশ অপারেশনাল এবং আইনী খরচ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে সংস্থার কর্মচারীদের বেতন বকেয়া পড়ে গিয়েছে। সংস্থাটি ২০১৯ অর্থবছরে ১৩,৮০৪ কোটি টাকার নিট লোকসানও করেছে।

কর্মচারীদের বেতন ছাড়াও, সংস্থারকে ভেন্ডরদের পাওনা ১,৬০০ কোটি টাকা থেকে শোধ করতে হবে। অন্য দিকে সূত্রের খবর, সরকারি গ্যারান্টিতে ব্যাঙ্কগুলি থেকে তহবিল সংগ্রহের জন্য বিএসএনএলের পরিকল্পনা এখনও ফলপ্রসূ হয়নি।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত দুই টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল এবং এমটিএনএল বছরখানেকের উপর ধরে আর্থিক সংকটে জেরবার। সংস্থার কর্মীদের বেতন মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। উৎসবের মরশুমেও হাতে বকেয়া বেতন না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরা। এমতাবস্থায় সংস্থা দু’টির পুনরুজ্জীবন নিয়ে তৎপর সংশ্লিষ্ট উচ্চ কমিটি। এর আগেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও) থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়।

[ আরও পড়ুন: পুরুলিয়ার ‘কোটিপতি’ গৌতম পুরস্কারের বড়ো অংশই তুলে দিতে চান দু:স্থদের হাতে ]

এর আগেও টেলিকম দফতর (ডট) বিএসএনএলের পুনরুজ্জীবনে ৭০,০০০ কোটি টাকার প্রস্তাব রেখেছিল। একই সঙ্গে ডট জানায়, সংস্থাটিকে বন্ধ করতে সরকারকে ব্যয় করতে হবে ৯৫,০০০ কোটি টাকা। ডটের প্রস্তাবে সায় দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিগোষ্ঠী। কিন্তু ওই প্রস্তাব নিয়ে বেঁকে বসে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। সেখান থেকে প্রায় ৮০টি আপত্তির কথা জানানো হয়। কিন্তু সংস্থাটিকে বন্ধ করতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, সেটাও একটা বড়োসড়ো ফ্যাক্টর বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট উচ্চ কমিটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.