BSP

ওয়েবডেস্ক: কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চেই ছবিটা আংশিক পরিষ্কার হয়ে ফুটে উঠেছিল। শনিবার উত্তরপ্রদেশের বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র কার্যকরী সভার বৈঠকে তা স্পষ্ট হয়ে গেল।

সূত্রের খবর, বিএসপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তীসগঢ়ের বিধানসভা নির্বাচনে সরাসরি জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যাবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে যে কারণে বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী দিল্লিতে থেকে নিজের হাতে ওই তিন রাজ্যে কংগ্রেস-বিএসপি জোটের প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছেন। ঠিক এই একই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিএসপি কর্নাটকে জেডি(এস)-এর সঙ্গে প্রাক-নির্বাচনী জোট গড়েছিল। ফলস্বরূপ সে রাজ্যে একটি আসনে বিএসপি প্রার্থী জয়ীও হয়েছেন। কতকটা একই ধাঁচে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে ওই তিন রাজ্যের বিধানসভা ভোট কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফায় যেতে প্রস্তুত বিএসপি। কিন্তু এর পরিবর্তে তাদের দাবি মূলত একটাই।

ওই সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপি-বিরোধী জোট গঠনে সায় জানিয়ে বিএসপি স্থির করেছে, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুলে ধরা হতে পারে দলের প্রধান মায়াবতীকেই। তবে বিজেপি-বিরোধী জোটের ব্যাপারে মৌখিক ভাবে প্রাথমিক আলোচনা হলেও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে মায়াবতীর নাম নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলের তারকা সমাবেশের শুরু থেকেই নজর কেড়েছে ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী এবং মায়াবতীর প্রাণোচ্ছ্বল কথোপকথন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের মনে তখন থেকেই একটা পূর্বাভাস মিলছিল। শনিবার বিএসপির কার্যকরী কমিটির বৈঠকে মায়াবতীর নাম প্রস্তাবে তা শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত হল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও জাতীয় কংগ্রেস বা অন্যান্য বিজেপি-বিরোধী দলগুলি বিএসপির প্রস্তাব মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে জোরালো সংশয় থেকেই যায়। তার উপর গত লোকসভা নির্বাচনে যেখানে মায়বতীর দল একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি, সেখানে সে দলের প্রস্তাব কতটা অগ্রাধিকার পাবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে একটি মহলের দাবি, বিএসপির প্রস্তাব কংগ্রেসের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার অন্যতম একটি কারণ রয়েছে। তা হল গত ২০১৪-র লোকসভা ভোটে বিএসপির ভোটপ্রাপ্তি। সংখ্যার বিচারে একটি আসনে জয়লাভ করতে না পারলেও সে বার বিএসপি ৪.১৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দলের স্থান দখল করেছিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here