UP

লখনওউ : ত্রিপুরা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাশা উলটে গেল উত্তরপূর্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রের। ঠিক তারই সঙ্গে একটা ঘুঁটির ধাক্কায় বদলে গেল অন্য আর একটি ঘুঁটিও। উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে হাত মেলাল দু’ দশকের দুই শত্রু দল বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি) আর সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর আর ফুলপুরের লোকসভা উপনির্বাচনে সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন করার নীতি নিয়েছে বিএসপি। বিএসপি-র সুপ্রিমো মায়াবতী বলেন, বিজেপিকে হারাতে যে কোনো দলের সঙ্গেই হাত মেলাতে পারে তাঁর দল। অন্য দিকে অখিলেশ যাদবও বলেছেন, সাম্প্রদায়িক দল বিজেপিকে আটকাতেই মায়াবতীর সহযোগিতায় ২৩ বছর পরে আবার এসপি আর বিএসপি এক জোট হয়েছে।

গোরক্ষপুর আর ফুলপুরের উপনির্বাচন ১১ মার্চ। ফল ঘোষণা ১৪ মার্চ।

২০১৭ সালে ৪০৩ আসনের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির দখলে আসে ৩০০-রও বেশি আসন। এ বারের উপনির্বাচনে ফের বিজেপির জয় আটকাতেই এই নীতি নিয়েছে দুই দল। প্রসঙ্গত এর আগে ২০১৫ সালের বিহারের নির্বাচনের সময়ও দুই শত্রু দল জেডিইউ আর আরজেডি একে অপরকে সমর্থন করেছিল।

বসপা-র গোরক্ষপুর আর ইলাহাবাদের কোঅর্ডিনেটর ঘনশ্যাম কারওয়া ও অশোক গৌতম সপা-র নেতৃবৃন্দের সামনে তাদের সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তাঁরা বলেন, এই উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবে না বসপা।

বিএসপি-র সুপ্রিমো মায়াবতী বলেন, এখানে সপা আর বসপা-র মধ্যে যৌথ ব্যাপারটাই আসছে না। তিনি আরও বলেন, চুক্তি হয়েছে এর পর রাজ্যসভা নির্বাচনে সপা একই ভাবে সমর্থন জানাবে বসপাকে।

বিএসপি-র রাজ্য সম্পাদক রাম অচল রাজবাহার বলেন, সাম্প্রদায়িক আর বৈষম্যবাদী দল বিজেপিকে হারাতেই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মায়াবতী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেশ কয়েক দফার আলোচনার পরই। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৯৩ সালেও বিজেপিকে রুখতে সপা আর বসপা হাত মিলিয়ে ছিল।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেতৃত্বের পরিবর্তনের ফলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কার্যকর করা মায়াবতীর পক্ষে সহজ হয়েছে।

এখন অপেক্ষা ১৪ মার্চের। আদৌ বিজেপিকে হারানোর এই রাজনৈতিক চাল কাজে এল কিনা সে কথা স্পষ্ট হয়ে যাবে উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here