budget-12018

নয়াদিল্লি: প্রত্যাশা পূরণ না কি আর্থিক সংস্কার?  এমন প্রশ্নেই দোলাচলে থাকা দেশবাসীর জন্য অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি যে বাজেট পেশ করলেন, তা নিয়ে মোটেই আশ্বস্ত হতে পারছেন না মধ্যবিত্তরা। অভিন্ন পণ্য পরিষেবা কর বা জিএসটি চালু হওয়ার পর এটাই ছিল প্রথম বাজেট। ফলে আমদানি বা আন্তশুল্ক কর নিয়ে তেমন কিছু ঘোষণার কথা ছিল না বললেই চলে। তবে পূর্বাভাস মতোই কর্পোরেট করে ছাড়ের কথা ঘোষণা করলেও তা বহনের ভার চাপল আদতে মধ্যবিত্তের ঘাড়েই(২৫০ কোটি টাকার কম টার্নওভারের সংস্থার কর্পোরেট কর ৩০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে বাজেটে)।

অর্থমন্ত্রীর বাজেটে স্বাভাবিক ভাবেই গ্রাম ও কৃষকের মানভঞ্জনের নজির গড়েছে। আরও বেশি কিষাণ ক্রেডিট কার্ড বিলির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কৃষির উন্নয়নে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে বাড়তি জোর দেওয়া হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি কাজে আগ্রহ বাড়ানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সে দিকে নজর রেখেই আলু, পেঁয়াজ এবং টম্যাটো চাষের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চাষের কাজে আর্থিক সহায়তার জন্য পাঁচ কোটি মানুষকে ঋণদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধান-গম বা ডাল জাতীয় শস্যের পাশাপাশি বাঁশ উৎপাদন বাড়াতেও সরকার নতুন একটি প্রকল্প ঘোষণা করেছে। ন্যাশনাল ব্যাম্বু মিশন নামের ওই প্রকল্প থেকে উৎসাহীরা বিনামূল্যে পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তা পাবেন।

এ ছাড়া গ্রামীণ মানুষের আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়নে মৎস্য এবং জলজ প্রাণী চাষের ক্ষেত্রে উৎসাহ দানে বরাদ্দ করা হয়েছে ১০,০০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রাণী সম্পদ উন্নয়নে জোর দিতে বরাদ্দের পরিমাণ আরও ১০,০০০ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রীর আগামী এক বছরের পরিকল্পনায় সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের বেশ কয়েকটি ইতিবাচক দিক উঠে এলেও বাকিটা কিন্তু ততটা আশাব্যঞ্জক নয়। আর বাকি সমস্ত নেতিবাচক দিকটির ফল ভুগতে হবে মধ্যবিত্তকেই। অর্থমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছিল, আয়করের কাঠামো পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা রয়েছে কেন্দ্রের। কিন্তু তা অপরিবর্তিতই রাখা হল। বেতন থেকে ৪০ হাজার টাকার ছাড় দিয়ে বাকি উপার্জনের উপর আয়কর দিতে হবে সেই পুরনো হারেই। এমনকি বলা হয়েছিল, চাকরিজীবীদের আয়কর লাঘব করতে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সংস্কার করা হবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী সে বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্যই করেননি।

উল্টোদিকে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মতো অতি-আবশ্যক পরিষেবায় সেস বাড়িয়ে কেন্দ্র মধ্যবিত্তকেই সমস্যার মুখে ফেলে দিল। বাজেটে বলা হয়েছে, এই দুই ক্ষেত্রে আগের এক শতাংশ সেস-কে চার শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হল। যে কোনো বিলের ক্ষেত্রেই এই সেস প্রযোজ্য হবে। আবার কাস্টম ডিউটি বাড়ানোর ফলে বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম নির্মাতা সংস্থাগুলি ব্যয়ের ভার যে ক্রেতার ঘাড়েই চাপাবে, তা বলাই বাহুল্য। স্বাভাবিক ভাবে বাড়িয়ে দিল মোবাইল বা টিভির মতো বহু ব্যবহার্য বৈদ্যুতিন সামগ্রীর।

সব মিলিয়ে কিছু নীতিগত ও ক্ষেত্র বিশেষে পরিকল্পনা ঘোষণার এই বাজেটে আর যাই হোক মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের কাছে তেমন কোন গুরুত্ব বহন করল না।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন