Mamata Banerjee

ওয়েবডেস্ক: নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (সিএএ) প্রত্যাহার এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) না করার দাবিতে পথে নেমে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের নজরদারিতে গণভোটের দাবি তুলেছেন। মমতার এহেন দাবি প্রসঙ্গেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি জানিয়ে দিলেন, সিএএ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করার কিছুই নেই।

গত বৃহস্পতিবার রানি রাসমণি অ্যাভেনিউর সভা থেকে মমতা বলেন, “বিজেপির সাহস থাকলে, সিএএ-এনআরসি নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নজরদারিতে গণভোট করে দেখাক”। দেশের কত মানুষ নতুন আইনের পক্ষে রয়েছেন, সেটার যাচাই করতেই মমতা এ ধরনের দাবি তুলেছেন। তবে মমতার এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা বাদেই রাজ্যপাল জগদীপ ধানখড় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি মমতাকে নিজের মন্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

এ দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রেড্ডি জানান, “বিগত পাঁচ-সাড়ে পাঁচ বছরে আমরা পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বেশ কিছু মানুষকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই আইন (সিএএ) কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা এলাকার বিরোধী নয়”।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্বহীনের মতোই এ ব্যাপারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। এটা আদতে আমাদের নিজস্ব বিষয়ে বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানানো। আমি জানি না, কেন এক জন মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি এ ধরনের দায়িত্বহীন মন্তব্য করলেন”।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “আমরা নিয়মিত রাজ্যগুলিকে যথাযোগ্য নির্দেশ দিচ্ছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা রাজ্যের বিষয়। আমরা রাজ্যগুলোকে পরামর্শ দিয়েছি, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সর্বক্ষণের নজরদারি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার”।

অন্য দিকে শুক্রবার সাতসকালে ফের টুইটারে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধেছেন রাজ্যপাল। তিনি লিখেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও আপত্তিকর এক পথ বেছে নেওয়ার কথা জনসমক্ষে বলেছেন। আমার আবেদন না-মেনে তিনি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এতে আমি খুবই দুঃখিত। এর ফলে আমাদের গণতান্ত্রিক চরিত্রে বিশেষ ক্ষতিসাধন হবে”।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন