নয়াদিল্লি : নতুন ৫০০, ১০০০-এর নোট ছাপা হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নগদের সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে। শুক্রবার এইচটি লিডারশিপ সামিটে এ কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সাফ বলেছেন, ৮ নভেম্বরের আগে যে পরিমাণ নোট চালু ছিল, সেই পরিমাণ নতুন নোট রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাজারে ছাড়বে না। ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর এক ঘোষণায় ১৭ লক্ষ কোটি টাকার ব্যাঙ্কনোট কাগজে পরিণত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন এর অর্ধেক মূল্যের ব্যাঙ্কনোট ছাপানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ছাপতে ভারতের চারটি সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসের সময় লাগবে কয়েক মাস।      

তবে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতির ব্যাপারে খুবই আশাবাদী আইনজীবী অর্থমন্ত্রী। অমর্ত্য সেন থেকে কৌশিক বসু, ল্যারি সামার্স থেকে জাঁ দ্রেজে, যা-ই বলুন না কেন, অরুণ জেটলি কিন্তু মনে করেন, ডিমানিটাইজেশনের ফলে এখন একটু কষ্ট হলেও আখেরে দেশের লাভই হবে। “গোড়ায় গোড়ায় একটু ব্যাঘাত হবে বটে, তবে দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের লাভ হবে।”

কিছু দিন আগেই ভারত সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রমানিয়ান জুলাই-সেপ্টেম্বরে ভারতের চমকপ্রদ আর্থিক বৃদ্ধির হারের খতিয়ান পেশ করতে গিয়ে পরবর্তী ত্রৈমাসিকগুলিতে বৃদ্ধির হার কত দাঁড়াবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সংশয়ের মূলে ছিল ডিমানিটাইজেশন। কিন্তু আইনজীবী অর্থমন্ত্রীর কোনো সংশয় নেই। তিনি পরিষ্কার বলেছেন, “যখন একটা ব্যবস্থা থেকে আরেকটা ব্যবস্থায় যেতে হয় তখন কিছু ব্যাঘাত ঘটে, কিন্তু এই ব্যাঘাত বেশি দিন থাকবে না। একটা কোয়ার্টার হয়তো এই অবস্থা চলবে। তার পর পরবর্তী ১২-১৫ কোয়ার্টারে দেখা যাবে দেশের অর্থনীতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আর তখন যে সুবিধাটা পাওয়া যাবে, সেটা এই ব্যাঘাতের তুলনায় অনেক অনেক বেশি।”

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক বাড়বে, তবে কাগজের কারেন্সির ব্যবহার অনেকটাই কমে যাবে। যতটা আশা করা গিয়েছিল, তার চেয়েও দ্রুত ভারতের পরিবর্তন হচ্ছে। জিএসটি এবং ডিমানিটাইজেশন ভারতে ‘গেম-চেঞ্জার হবে বলে দাবি করেন অরুণ জেটলি। এই প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানিয়ে দেন, জিএসটি চালু করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। জিএসটি-র রূপায়ণ কোনো ভাবেই পিছোবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here