নয়াদিল্লি: জাতপাতের বিভেদ আর সাম্প্রদায়িকতায় আমাদের কোনো লাভ হবে না। গান্ধী-বুদ্ধের দেশে বিশ্বাসের নামে কোনো হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। মঙ্গলবার ভারতের স্বাধীনতার ৭০তম বর্ষপূর্তিতে জাতির উদ্দেশে এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, জাতপাত আর সাম্প্রদায়িকতার বিষ আমাদের রাষ্ট্রের কোনো উপকারে আসবে না। এই দেশ মহাত্মা গান্ধী আর বুদ্ধের দেশ। এই দেশ শান্তি, একতা আর সদ্ভাবনার দেশ। এখানে হিংসার কোনো স্থান নেই।

ভারতের সব চেয়ে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল যে পূর্ব ভারত তার স্বীকৃতি মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। তিনি বলেছেন, বিহার, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা আর উত্তর-পূর্ব নিয়ে যে পূর্ব ভারত, তার দিকে আমরা যথেষ্ট নজর দিচ্ছি। ভারতের এই অংশকে আরও এগিয়ে যেতে হবে।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রথামতো মঙ্গলবার সকালে লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ভাষণে তিনি কাশ্মীর সমস্যা থেকে দুর্নীতি, মুসলিম মহিলাদের তিন তালাক থেকে বিমুদ্রাকরণ, সন্ত্রাসবাদ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা — যাবতীয় প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।

কাশ্মীর সমস্যা প্রসঙ্গে মোদী বলেন, বুলেট বা গালি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কাশ্মীরিদের বুকে টেনে নিতে হবে।

জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী যা বললেন তা এক ঝলকে —

  • আমি সেই সব মহিলাদের কথা বলতে চাই, যাঁরা তিন তালাক প্রথার ফল ভুগছেন — আমি তাঁদের সাহসের প্রশংসা করতে চাই। তাঁদের লড়াইয়ে আমরাও সঙ্গে আছি।
  • আমরা এমন ভাবে তরুণদের বড়ো করছি যাতে তারা ‘চাকুরিপ্রার্থী’ না হয়ে ‘চাকুরিস্রষ্টা’ হয়।
  • ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আমাদের জনগণের সমৃদ্ধির জন্য আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি।
  • তিন বছরে আমরা ১.২৫ লক্ষ কোটি কালো টাকা উদ্ধার করেছি।
  • সন্ত্রাসবাদ বা সন্ত্রাসবাদীদের ব্যাপারে নরম হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
  • বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তি ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে সারা বিশ্ব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই কাজে আমাদের সাহায্য করার জন্য সমস্ত দেশকে ধন্যবাদ জানাই।
  • সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সময় বিশ্ব বুঝতে পেরেছে ভারত কতটা শক্তি ধরে।
  • দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় কাজ করাই হল সুশাসন।
  • সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে জিএসটি-তে। জিএসটি-কে সমর্থন করার জন্য সমগ্র দেশ এক হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিরও ভূমিকা রয়েছে।
  • যারা দেশকে লুঠ করেছে, গরিবদের লুঠ করেছে, তারা আজ শান্তিতে ঘুমোতে পারছে না।
  • ‘চলতা হ্যায়’ মনোভাব আমাদের ছাড়তে হবে। আমাদের ভাবতে হবে ‘বদল সকতা হ্যায়’ — রাষ্ট্র হিসাবে এই মনোভাবেই আমাদের লাভ হবে।
  • ২০১৮-এর পয়লা জানুয়ারি একটা সাধারণ দিন হবে না। যারা এই শতকে জন্মেছে তারা ১৮ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাবে। তারাই আমাদের রাষ্ট্রের ভাগ্যবিধাতা।
  • আমাদের দেশে কেউ বড়ো, কেউ ছোটো নয়, সবাই সমান। আজ আমরা দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি।
  • ‘নতুন ভারত’ গড়ার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা নিয়ে দেশকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
  • এ বছর একটা বিশেষ বছর — ‘ভারত ছাড়ো’র ৭৫ বছর, চম্পারন সত্যাগ্রহের ১০০ বছর এবং গণেশ উৎসবের ১২৫ বছর।
  • প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর গোরখপুরের মর্মান্তিক ঘটনায় যাঁরা দুর্গত তাঁদের পাশে ভারতবাসী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

‘জয় হিন্দ’, ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারতমাতা কি জয়’ ধ্বনি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতা শেষ করেন।

ছবি সৌজন্যে টুইটার

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here