কাবেরীর জলবণ্টন ইস্যুতে ছড়িয়ে পড়া হিংসা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি রাজধানী বেঙ্গালুরুতে। বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে শহরের তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলি।

তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রগুলি তাদের কর্মচারীদের তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। এমনকি বাড়িতে থেকেও কাজ করলে অসুবিধা নেই, তা-ও বলছে কোম্পানিগুলি। হিংসার জেরে বিশাল ভাবে ব্যাহত হচ্ছে অনলাইন কেনাকাটার দুই পথিকৃৎ কোম্পানি অ্যামাজন আর ফ্লিপকার্টের পরিষেবা। অ্যামাজনের তরফে বলা হয়েছে, “বেঙ্গালুরুর হিংসার জেরে আমাদের জিনিসপত্র ডেলিভারি ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার ডেলিভারি শুরু হবে”। অন্যদিকে, ফ্লিপকার্টের তরফে বলা হয়েছে, “এখনও পর্যন্ত আমরা ডেলিভারি বন্ধ রেখেছি, কারণ আমাদের কাছে ডেলিভারির থেকে কর্মচারীদের নিরাপত্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডেলিভারিতে কতটা দেরি হবে সেই ব্যাপারে ক্রেতাদের আমরা সচেতন রাখছি”।  বণিকসভা অ্যাসোচেমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভ, হিংসার জেরে প্রায় কর্নাটক তথা বেঙ্গালুরুর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

সোমবার কাবেরী ইস্যুতে ব্যাপক হিংসা ছড়ায় বেঙ্গালুরুতে। স্কুল, কলেজের সাথে সরকারি বেসরকারি অধিকাংশ অফিসেই তাড়াতাড়ি ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়। অনলাইন কোম্পানি, ‘রেজোরপে’-র মুখপাত্র হর্শিত মাথুর বলেন, “পরিস্থিতি এমন যে লোক কাজে আসতেই চাইছে না। ভয়ের পরিবেশ হয়ে রয়েছে। আমরা গত কয়েকদিন ধরে কিছু কাজই করতে পারছি না। এর প্রভাব পড়েছে উৎপাদনের হারে।”

এ দিকে সোমবার হিংসার পর, মঙ্গলবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ইনফোসিস, উইপ্রো-সহ শহরের আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি এ দিনও তাদের অফিস বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ‘ই অ্যান্ড ওয়াই’ নামক একটি কোম্পানি কর্নাটকে কর্মরত কর্মচারীদের তামিলনাড়ুর নম্বর প্লেটের গাড়ি ব্যবহার না করার আবেদন করেছে এবং তামিলনাড়ুর কর্মচারীদের কর্নাটক নম্বর প্লেটের গাড়ির ব্যবহারে নিষেধ করেছে।     

মঙ্গলবারও থমথমে বেঙ্গালুরু আর মহীশুর। নতুন করে হিংসার ঘটনা না ঘটলেও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও কারফিউ জারি রেখেছে প্রশাসন। শান্তি ফেরানোর জন্য দুই রাজ্যের মানুষের কাছে আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে মোদী লিখেছেন, “ভারত যখনই কোনও সমস্যার মধ্যে দিয়ে গেছে, তখন বাকি দেশবাসীর মতো কর্নাটক আর তামিলনাড়ুর মানুষও সংবেদনশীলতার সাথে সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন”। আলোচনাই যে একমাত্র সমাধান, সেই ব্যাপারে মোদী বলেন, “আইন ভাঙা কোনও পথ নয়। হিংসায় কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না। গণতান্ত্রিক দেশে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হতে পারে”। সব কিছুর ওপরে নিজের দেশ, এ কথা জানিয়ে মোদী বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস সব কিছুর ওপর আপনারা আপনাদের দেশকে রাখবেন”।  

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনের পরেও কর্নাটকে আদৌ শান্তি ফিরবে কি না, সেই ব্যাপারে প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here