গুড়গাঁও : জেরার মুখে কবুল করল সে-ই খুন করেছে প্রদ্যুমনকে। তারা একে অপরকে খুব ভালো করেই চিনত। গত দু’ বছর ধরে এক সঙ্গে পিয়ানো শিখতেও যেত তারা। সেটাই ছিল বিশ্বাসের জায়গা। সে নিজেই প্রদ্যুমনকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল স্কুলের ওয়াশরুমে। আর সেখানেই ছুরি দিয়ে গলা কেটে খুন করে প্রদ্যুমনকে। আসলে এ ভাবে স্কুলের পরীক্ষা আর শিক্ষক-অভিভাবক মিটিং পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল সে। এই একই কথা জানিয়েছেণ প্রদ্যুমনের অভিভাবকরাও।

জেরার মুখে অভিযুক্তের দোষ স্বীকারের কথা জুভেনাইল কোর্টকে জানিয়েছে সিবিআই। আদালত তাকে ফরিদাবাদের পর্যবেক্ষণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাকে এখানেই রাখা হবে। পরবর্তী শুনানি ২২ নভেম্বর।

সিবিআই-এর জেরার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্তের বাবাও। নিজে কানে ছেলের সব কথা শোনার পরেও তিনি দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে নির্দোষ। সিবিআই জোর করে তাকে দিয়ে এই সব কথা বলিয়ে নিয়েছে। তার ছেলের ওপর নিদারুণ অত্যাচার করছে সিবিআই।

গুড়গাঁওয়ের রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সাত বছরের প্রদ্যুমন ঠাকুর। ৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কুলের ওয়াশরুমের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেখা যায় কোনো একটা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে নেমে বুধবার সিবিআই একাদশ শ্রেণির অভিযুক্ত এই ছাত্রকে গ্রেফতার করে। শুরুতে এই হত্যা মামলার তদন্তের ভার ছিল গুড়গাঁও পুলিশের ওপর। প্রথমে যৌন নির্যাতন ও পরে খুনের দায়ে বাস কনডাক্টর অশোক কুমারকে গ্রেফতার করেছিল তারা। পরে অবশ্য সিবিআই তাকে নির্দোষ বলে ছেড়ে দেয়।

তবে এই ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়েছেন অশোকের স্ত্রী মমতা। তাঁর দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। প্রদ্যুমনের বাবা বরুণ ঠাকুরের বক্তব্যও একই। তিনি দাবি করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ আর পুলিশ হাত মিলিয়েছে। তারা আসল অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

সিবিআই জানিয়েছে, তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে অবৈধ ভাবে খুনের প্রমাণ লোপ করেছে গুড়গাঁও পুলিশ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here