নয়াদিল্লি : গুড়গাঁওয়ের রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র প্রদ্যুমন ঠাকুরের হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জুভেনাইল কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার একটা সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে সিবিআই। এই মামলার পরবর্তী শুনানি শনিবার। অভিযুক্ত ছাত্রকে তিন দিনের জন্য সিবিআই হেফাজতে পাঠালো গুরগাঁও আদালত।

এ দিন প্রদ্যুমনের পরিবারের আইনজীবী বলেন, অভিযুক্তের পরিবারকে সিবিআই এখনও পর্যন্ত কোনো ক্লিন চিট দেয়নি। এই খুনের পেছনে অনেক বড়ো ষড়যন্ত্র আছে। আশা করা হচ্ছে, দোষীদের বিরুদ্ধে সিবিআই উপযুক্ত চার্জশিট তৈরি করবে। তিনি বলেন, দোষীর জন্য কঠোর শাস্তি দাবি করবেন। যাতে অভিযুক্তকে সাবালক হিসেবে গণ্য করা হয় ও ফাঁসি দেওয়া হয় সেই চেষ্টাই করবেন তিনি।

তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক অভিষেক দয়াল বলেন, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী আগের ধারণার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা গেছে, যৌন নির্যাতনের সংযোগ নেই এই মামলায়। জানা গেছে অভিযুক্ত পড়াশোনায় ভালো নয়। সে চেয়েছিল পরীক্ষা আর শিক্ষক-অভিভাবক মিটিং পিছিয়ে যাক। অন্য ছাত্রদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছে ফুটেজে।

ক্যামেরা ফুটেজ থেকে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে প্রদ্যুমন ছাড়াও বাস কন্ডাক্টর আর অভিযুক্ত ছাত্রের সঙ্গে আরও দু’ জন ছাত্র ছিল। তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, অভিযুক্ত ছাত্র ছুরি সঙ্গে নিয়ে মাঝেমধ্যেই ঘুরত। সে গত এক বছর ধরে মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিল। তার চিকিৎসা চলছে।

এ দিন অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা দাবি করেন, তদন্তের স্বার্থে সব রকম সহযোগিতা করছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, একটি সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা গিয়েছে, প্রদ্যুমন স্কুলের টয়লেটের বাইরে দেওয়ালের সামনে পড়েছিল। তার ঠোঁট ফেটে অনেক রক্ত বেরিয়েছিল। সে মৃত্যুর আগে চিৎকার করেছিল। হামাগুড়ি দিয়ে টয়লেটের ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে প্রদ্যুমন। এই বিষয়ে গুড়গাঁও পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তভার সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর পরেই তার পিতামাতা একটি স্বাধীন তদন্ত দাবি করেন এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা স্থানান্তর করেন।

প্রদ্যুমনের ওপর যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে বাস কন্ডাক্টর অশোক কুমারকে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here