৫ দিনের সিবিআই হেফাজতে চিদাম্বরম

0

ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে তোলা হয় সিবিআই আদালতে। বিচারক অজয়কুমার কুহারের এজলাসে তদন্তের স্বার্থে চিদাম্বরমকে পাঁচ দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানায় সিবিআই। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে সওয়াল-জবাব।

২০০৭ সালে আইএনএক্স মিডিয়ায় বিদেশি বিনয়োগের বেনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা চিদাম্বরমকে গত বুধবার গ্রেফতার করে সিবিআই। এ দিন সলিসিটর জেনারেল আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে হাইকোর্টের রায় উল্লেখ করে বলেন, “আইএনএক্স মিডিয়ার বিদেশি বিনিয়োগ চুক্তিতে বেনিয়ম হয়েছিল। আগস্টে নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। চিদাম্বরম এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেননি। তিনি সেই সব নথি জমা দেননি। হাইকোর্টের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি সহযোগিতা করেননি। মামলার গুরুত্ব বুঝে চিদাম্বরমকে ছাড়া যাবে না”।

চিদাম্বরমের হয়ে কপিল সিব্বল বলেন, “এই মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় অভিযুক্ত ভাস্কর রমন এবং কার্তি চিদাম্বরম জামিন পেয়েছেন। একই সঙ্গে আইএনএক্স মিডিয়ার কর্ণধার পিটার এবং ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়কেও জামিন দেওয়া হয়েছে”।

কপিল সিব্বল আরও বলেন, “সিবিআইয়ের দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করেনিন চিদাম্বরম। গত ২০১৮ সালের ৬ জুন চিদাম্বরমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই। সে সময় যদি তিনি সহযোগিতা না করে থাকেন, তা হলে এত দিন কেন তাঁকে তলব করা হয়নি। সিবিআই তো তাঁকে আগেই তলব করতে পারত। কিন্তু তা করেনি সিবিআই। সত্যিই যদি চিদাম্বরম জবাব না দিয়ে থাকেন, তা হলে সেই তথ্য হাইকোর্টকে জানানো হয়নি কেন। এই মামলায় চার্জশিট-ই গঠন করতে পারেনি সিবিআই”।

সলিসিটর জেনারেল বলেন, “চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তদন্ত প্রায় শেষ, আমরা চার্জশিট পেশের আগের মুহূর্তে রয়েছি। নীরব থাকা সাংবিধানিক অধিকার, আমরা সম্মান করি। কিন্তু তদন্তে সহযোগিতা করছেন না চিদাম্বরম। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া জরুরি। বেআইনি লেনদেনে ভূমিকা রয়েছে চিদাম্বরমের। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ না করলে পর্বত প্রমাণ দুর্নীতির কিনারা করা সম্ভব নয়”।

কপিল ফের বলেন, “কাল (বুধবার) রাতে চিদাম্বরমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। আজও দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেরা করেনি সিবিআই। চিদাম্বরম তদন্তে অসহযোগিতা করেননি।সিবিআই কিছু বললেই ধ্রুব সত্য হয়ে যায় না।সিবিআইয়ের কিছু বলার থাকলে হাইকোর্টে বলতে পারত”।

অন্য দিকে চিদাম্বরমের হয়ে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, “চিদাম্বরম ৬ জনের সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছিলেন। তখন তো আপত্তি করেননি। ঘটনার ১১ বছর পর গ্রেফতার করা হল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে”। এর পর তিনি ইশারা করে চিদাম্বরমকে কিছু বলতে বলেন। এর তীব্র আপত্তি জানান সলিসিটর জেনারেল। তাঁর আবেদনে মান্যতা দিয়ে চিদাম্বরমকে বলার অনুমতি দেননি বিচারক।

শুনানি চলাকালীন আইএনএক্স মামলায় অভিযুক্ত ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তাঁকে রাজস্বাক্ষী করা এবং তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে তদন্তের গতি নিরূপণ করার অভিযোগ তোলেন কপিল।

সলিসিটর জেনারেল বলেন, “আমরা একজন শিক্ষিত অভিযুক্তের কথা বলছি। কার্তিকে ১২ দিনের হেফাজতে নিয়েছিল সিবিআই। তারপরই তাঁর জামিন হয়”।

কপিল সিব্বল বলেন, “টাকা যদি নেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে তা কোন অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। কার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে, সেটা জানাক সিবিআই”।

তবে শুনানির শেষ পর্বে চিদাম্বরমকে বলার অনুমতি দেয় আদালত। তিনি আদালতকে জানান, “সিবিআইকে দেওয়া প্রশ্নের উত্তরপত্রগুলো একবার দেখুন। সিবিআই আমাকে এমন প্রশ্ন করেনি, যেগুলির উত্তর আমি দিইনি। আমি আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য তদন্তকারীদের দিয়েছি। বিদেশের ব্যাঙ্কে আমার কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। আমার ছেলের রয়েছে, সে সেই সমস্ত তথ্য সিবিআইকে দিয়েছে”।

তবে শেষ পর্যন্ত চিদাম্বরমকে হেফাজতে চাওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন সলিসিটর জেনারেল। তাঁর আবেদনে মান্যতা দিয়েই চিদাম্বরমকে আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.