বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ১০০ দিন পূর্ণ হওয়া উদযাপন করছে একটি রাজ্যের সরকার। এটা যদি উত্তরপ্রদেশ বা তামিলনাড়ুর মতো কোনও রাজ্যে হত তা হলে হয়তো বোঝা যেত। কিন্তু রাজ্যটা যখন কেরল, আর সরকারে যখন সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, মানুষের মনে তখন তির্যক প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। যে দল দলীয় শৃঙ্খলার কথা বলে, কোনও নেতার আগে দলের কথা বলে, তাঁদের নেতৃত্বাধীন সরকার এমন করে কী করে!

এটা অবশ্য নতুন নয়। ২৫ মে-তে ঠিক একই ঘটনা ঘটিয়েছিল কেরল সরকার। সে দিন ছিল কেরলের নবনির্বাচিত বাম সরকারের শপথের দিন। নতুন সরকার কী করবে, রাজ্য পাল্টে দেবে এমন সব ঢালাও বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গিয়েছিল স্থানীয় সব সংবাদপত্র। বাদ যায়নি দেশের একটি নামী ইংরেজি মাধ্যমের সংবাদপত্রও। আর বিজ্ঞাপনে শীর্ষে ছিল কেরলের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের ছবি। বিতর্ক আরও বাড়িয়েছিল একটি বিজ্ঞাপন, যাতে লেখা ছিল “কেরলকে প্রকৃত ‘ভগবানের আপন দেশে’ পরিবর্তন করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ”। প্রশ্ন উঠেছিল, একটি কমিউনিস্ট দল কী ভাবে ‘ধর্মের’ কথা বলতে পারে। তা ছাড়া ‘নেতার আগে দল-এর কথা বলা সিপিএমের প্রচারে কী করে একটি নেতার ছবি থাকে! কিছু দিন পরেই তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে বিজয়ন সরকার যখন ‘দ্য উইক’-এ প্রকাশিত হওয়া একটি রিপোর্টে দেখা যায় এই বিজ্ঞাপনের পেছনে সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। সমাজকল্যাণমূলক কাজে এই টাকা খরচ না করে বিজ্ঞাপনের পেছনে এত টাকা খরচ করা অমূলক বলে মনে করেছিলেন অনেকে।  

আবার একই ঘটনা কেরল দেখল বৃহস্পতিবার। এ দিন একশো দিন পূর্ণ করল কেরল সরকার। বিজয়নের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে রাজ্যের ৮০টি সংবাদপত্রে এবং দিল্লিভিত্তিক চারটি জাতীয় সংবাদপত্রে। বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু, সরকার কত কাজ করেছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে সিপিএমের লাল রঙ দিয়ে সাজানো ওই বিজ্ঞাপনে একটি মহিলার ছবি রয়েছে। মহিলা বলছেন, “এখন আমাদের এখানে একটা সরকার রয়েছে!” তার পর কেরল সরকার এই একশো দিনে কত কিছু করছে তার ঢালাও প্রচার করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ পেনশন বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা,  সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতা আনা, দুর্নীতিমুক্ত সরকার — এই সব হল বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু।

বিজয়ন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে সিপিএম। কী করে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি থাকা বর্ষীয়ান ভি এস অচ্চুতানন্দনকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব না দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা বিজয়নকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হল, তা নিয়ে সিপিএমের অন্দরে বিতর্ক ছিলই। সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালল এই বিজ্ঞাপনী প্রচার।       

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here