kanyashree and Beti Bachao Beti Padhao’

কলকাতা: ২০১৪-’১৫ আর্থিক বছরে শুরু হওয়া কেন্দ্রের কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পটিতে এ বারের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। গত বছর বরাদ্দের পরিমাণ ছিল মাত্র ২০০ কোটি টাকা। দেশের সমস্ত রাজ্যগুলির কথা মাথায় রেখে গড় হিসাব করলে দেখা যাবে, প্রতিটি রাজ্য এই প্রকল্প থেকে পেয়েছিল মাত্র ছ’কোটি টাকা। এই পরিমাণ অর্থ পশ্চিমবঙ্গের মতো ১০ কোটি জনসংখ্যার রাজ্যে কতটা যথোপযুক্ত, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

২০১৮-’১৯ অর্থবর্ষের বরাদ্দ ঘোষণা করার সময় কেন্দ্র জানায়, ১,২১,৯৬১.৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে নারী-উন্নয়নের বিবিধ প্রকল্পে। অথচ, শিশু কন্যার স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাখাতে পৃথক প্রকল্প এই কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-এর জন্য মাত্র ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেই দায় সেরেছে কেন্দ্র। বাজেট পেশের মাস না ঘুরতেই বিভিন্ন মহল থেকে এই বিষয় নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে গেল। সেন্টার ফর বাজেট অ্যান্ড গভর্নেস অ্যাকাউন্টেবিলিটি বা সিবিজিএ তাদের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে সেই তথ্যও তুলে ধরেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হলেও তার যথাযথ বিলি বণ্টনের উপর নির্ভর করছে বাকিটা। কারণ শেষ হতে যাওয়া আর্থিক বছরে মাতৃত্বকালীন সুবিধা দিতে গৃহীত প্রকল্পে ৪০০ কোটি বরাদ্দ হলেও খরচ হয়েছে মাত্র ৭৫ কোটি টাকা।

রাজ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী, কন্যাশ্রী প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ খরচ করে ৫০০০ কোটি টাকা। যে কারণে এত বেশি সংখ্যক পড়ুয়ার হাতে এই পরিষেবা তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এ বছর তো ছাত্রী পিছু অনুদানের পরিমাণ ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করা হয়েছে। অনুদানপ্রাপ্ত ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও ঘোষণা করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ এবং রাজ্যের ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পে বরাদ্দের ফারাক আকাশ-পাতাল। রাজ্যের কাছ থেকে এ বিষয়ে কেন্দ্রকে শিক্ষা নিতে হবে।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন