vaccination
কলকাতার একটি হাসপাতালে টিকাকরণ। প্রতীকী ছবি

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বেসরকারি হাসপাতালগুলো কোভিডের টিকার (Covid vaccine) জন্য সর্বাধিক কত টাকা নিতে পারে তা ঠিক করে দিল কেন্দ্র। টিকা নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলো ব্যাপক মুনাফা লুটছে, চতুর্দিক থেকে এই অভিযোগ ওঠার পর সোমবার কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিল।

কেন্দ্রের ঘোষণা অনুসারে কোভিশিল্ডের (Covishield) দাম পড়বে ৭৮০ টাকা, কোভ্যাকসিনের (Covaxin) ১৪১০ টাকা এবং স্পুটনিক ভি-র (Sputnik V) ১১৪৫ টাকা। এর মধ্যে সমস্ত কর এবং হাসপাতালের সার্ভিস চার্জ ১৫০ টাকা ধরা আছে।

Loading videos...

টিকার দাম ধরা হয়েছে উৎপাদকদের ঘোষিত দামের ভিত্তিতে

টিকার দাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, “এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, উৎপাদকরা যে চলতি দাম ঘোষণা করেছেন, টিকার দাম তার ভিত্তিতেই ধরা হয়েছে। উৎপাদকরা যদি দামের পরিবর্তন করেন তা হলে ভবিষ্যতে টিকার দাম সেইমতো সংশোধন করা যেতে পারে।”

উল্লেখ্য, সেরাম ইনস্টিটিউট বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কোভিশিল্ড বেচে প্রতি ডোজ ৬০০ টাকা করে (জিএসটি ছাড়া)। ভারত বায়োটেক তাদের প্রতি ডোজ কোভ্যাকসিনের জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কাছে নিচ্ছে ১২০০ টাকা করে। আর প্রতি ডোজ স্পুটনিক ভি সরবরাহ করা হয় ৯৪৮ টাকা দামে।

বেশি টাকা নিলে কড়া ব্যবস্থা

বেসরকারি হাসপাতালগুলো যাতে ১৫০ টাকার বেশি সার্ভিস চার্জ না নিতে পারে তা দেখার জন্য রাজ্যগুলিকে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে। কোনো বেসরকারি টিকাকেন্দ্র যদি এর থেকে বেশি টাকা নেয়, তা হলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে রাজ্য সরকারগুলিকে।

রবিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো ২৫ শতাংশ টিকা সংগ্রহ করতে পারবে এবং টিকার দামের উপরে তারা ১৫০ টাকা পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ ধার্য করতে পারবে।  

যাঁরা টিকা নেওয়ার যোগ্য সরকার-চালিত প্রতিষ্ঠানগুলিতে তাঁদের সকলকে নিখরচায় টিকা দেওয়া হবে। রবিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা ঘোষণা করেন।

মে মাসে ঘোষিত নীতির ব্যাপক সমালোচনা

কোভিড টিকার এক এক হাসপাতালে এক এক রকম দাম নেওয়ার জন্য গত মে মাসে ঘোষিত কেন্দ্রের টিকা-নীতি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকরা মনে করিয়ে দেন, বহু দেশ তাদের সমস্ত মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দিচ্ছে। সমস্ত খরচা বহন করছে সরকার।

এমনকি সুপ্রিম কোর্টও বলেছিল, যে টিকা ৪৫ বছরের বেশি বয়স্করা নিখরচায় পাচ্ছে, সেই টিকাই ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সিদের কাছে প্রচুর দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এই নীতি “আপাতদৃষ্টিতে স্বেচ্ছাচারী ও যুক্তিহীন”।

আরও পড়ুন: সংক্রমণ-পতন অব্যাহত পশ্চিমবঙ্গে, এক মাস পর মৃতের সংখ্যাও একশোর নীচে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.