নয়াদিল্লি : নিম্ন আদালতগুলিতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টকে সর্বভারতীয় স্তরে অভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিল কেন্দ্র। চিকিৎসক নিয়োগের ‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স এগজামিনেশন’ (নেট)-এর মতোই বিচার বিভাগেও এমন কোনো পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে, জানাল কেন্দ্র।

বর্তমানে অধঃস্তন বিচারকের পদের সংখ্যা মোট ২১ হাজার। তার মধ্যে খালি পদের সংখ্যা ৫০০০। নিম্ন আদালতে সেই সব পদে লোক নেওয়ার জন্যই একটি সর্বভারতীয় ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিল কেন্দ্র।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে যাঁরা নিযুক্ত হন, তাঁদের অনেকেই হাইকোর্টে কাজ করেন। জেলা আদালতে বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের গুণগত মান এবং তাঁদের নিয়োগে অভিন্নতার অভাব নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্র। তবে ২৪টি হাইকোর্ট ও স্টেট সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) দ্বারা নিযুক্তদের বিষয়ে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করতে চায় না কেন্দ্র।

আইনমন্ত্রকের সচিব স্নেহলতা শ্রীবাস্তব লিখিত ভাবে সুপ্রিম কোর্টকে জানান, সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) যে পদ্ধতিতে মেডিক্যালে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে প্রার্থী বাছাই করে সেই পদ্ধতিও অনুসরণ করা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে নেটের যাবতীয় বিষয় পরীক্ষার প্রস্তুতি, আয়োজন থেকে ফলপ্রকাশ সবটাই করে সিবিএসই। তিনি জানান, এ ছাড়াও কেন্দ্র ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি)-র মাধ্যমে আমলা ও সামরিক ক্ষেত্রে প্রার্থী নিয়োগের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করে সে পদ্ধতিও নেওয়া যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠন করে। উদ্দেশ্য, সর্ব ভারতীয় স্তরে নিম্ন আদালতগুলির জন্য অভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা। এই মর্মে ৮ এপ্রিল কেন্দ্র ও বিচারবিভাগ মিলিত ভাবে একটি বৈঠক করে। কিন্তু কেন্দ্র অভিন্ন পরীক্ষার পরামর্শ দিলেও বিজেপি শাসিত রাজ্য-সহ মোট সাত রাজ্য এর বিরোধিতা করে।

আইনমন্ত্রকের তরফ থেকে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালতগুলিতে সব মিলিয়ে মোট তিন কোটি মামলা পড়ে রয়েছে। এর ফলে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মামলাকারীরা। তাই দরকার উপযুক্ত প্রার্থী দিয়ে এই ফাঁক পূরণ করা। মামলার নিষ্পত্তি করা। তাই রাজ্যগুলিকেও তাদের মতামত জানানোর জন্য এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন