ওবিসি সংরক্ষণে বড়োসড়ো রদবদলের সুপারিশ, বাস্তবায়নে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু কেন্দ্রের

0

নয়াদিল্লি: অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)-র উপ-শ্রেণিকরণ। পাশাপাশি ২৭ শতাংশ সংরক্ষণের ন্যায়সঙ্গত পুনর্বণ্টন। এমনই কিছু স্পর্শকাতর ইস্যুতে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

ওবিসি-র অধীনে উপ-শ্রেণিকরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য গঠিত হয়েছিল বিচারপতি জি রোহিণী কমিশন। সেটা ২০১৭ সালের কথা। সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে ওই কমিশনের প্রস্তাবগুলি। যেখানে ২ হাজার ৬৩৩টি জাতিকে (caste) চারটি বিভাগে ভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিটা বিভাগে সংরক্ষিত জাতির সংখ্যা পৃথক।

বর্তমানে এ ধরনের কোনো উপ-শ্রেণিকরণ নেই। ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ একটি একমুখি প্রক্রিয়া, যেখানে সংরক্ষণ ওই ২ হাজার ৬৩৩টি জাতির মধ্যে বিতরণ করা হয়। ওবিসি তালিকার মধ্যে উপ-শ্রেণিকরণের উদ্দেশ্য, এই জাতি এবং উপজাতির সংখ্যাগত জনসংখ্যা অনুযায়ী সংরক্ষণের আরও ন্যায়সঙ্গত বণ্টন যাতে সম্ভব হয়।

কমিশন নিজের সুপারিশের ব্যাখ্যাও করেছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে (PMO)। জানা গিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে থাকবেন সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রী ড. বীরেন্দ্র কুমার। সূত্রের খবর, কমিশনের সুপারিশের রাজনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। কারণ, ঐতিহাসিক ভাবে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। সংরক্ষণের বিষয়ে যে কোনো পদক্ষেপ ব্যাপক সহিংস প্রতিবাদের সূত্রপাত করেছে অতীতে।

১৯৭৯ সালে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে জনতা পার্টি সরকারের সময় প্রতিষ্ঠিত হয় সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন। পরের বছরই রিপোর্ট জমা করে কমিশন। কেটে যায় প্রায় ১০ বছর। ১৯৯০ সালের আগস্টে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর হয়। যার জেরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

সূত্রের মতে, চারটি বিভাগের এই উপ-শ্রেণিকরণের প্রক্রিয়া নিখুঁত ভাবে বিশ্লেষণ করতে চাইছে কেন্দ্র। যাতে এই নিয়ম কার্যকর হলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। কারণ, যে কোনো প্রস্তাবেরই বাস্তবায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রস্তুতি দরকার।

কমিশনের মতে, সমস্ত দিক বিবেচনা করেই চারটি বিভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে সংরক্ষণের অসম বণ্টনের সমাধান করবে। ওবিসি রেকর্ডে পরিবর্তনের জন্য কমিশন সুপারিশ রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে জানাতে হবে কেন্দ্রকে। আগামী বছর দেড়েকের মধ্যে বিজেপিশাসিত গুজরাত, হিমাচলপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা ভোট। তার আগেই এই প্রক্রিয়া সেরে ফেলা হতে পারে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

আরও পড়তে পারেন: 

তীব্র গরমের পর ভারী বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের কিছু জায়গায়, সর্বনিম্ন তাপমাত্রাতেও চমক

গত সপ্তাহে ছিল ৬৫ শতাংশ, বর্তমানে দেশের নতুন সংক্রমণের সাড়ে ৬৮ শতাংশই দিল্লি-হরিয়ানা-উত্তরপ্রদেশে

ফনী, উম্পুন, ইয়াসের মাসেই ফের বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ!

সম্পত্তি গোপন মামলায় দোষী সাব্যস্ত, বরিস বেকারের আড়াই বছরের কারাদণ্ড

‘এমন চললে তো পুলিশ-রাষ্ট্র হয়ে যাবে’, জীগনেশ প্রসঙ্গে অসম পুলিশকে বেনজির ভর্ৎসনা আদালতের

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.