নয়াদিল্লি: ‘তিন তালাক’, ‘নিকা হালাল’ এবং বহু বিবাহের জন্য সমাজে মহিলাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং এর ফলে ব্যাহত হয় তাদের মৌলিক অধিকার। ‘তিন তালাক’ নিয়ে নিজেদের আগের অবস্থানে বহাল থেকেই মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে জানাল কেন্দ্র। কেন্দ্রের মতে, এই প্রথার জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মহিলারা অন্য সম্প্রদায়ের মহিলাদের থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ছে।

সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের তরফে একটি লিখিত আবেদনে বলা হয়, “তিন তালাক, ‘নিকা হালাল’ এবং বহু বিবাহের ফলে মহিলাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। এর ফলে অন্য সম্প্রদায়ের মহিলা এবং অন্য দেশের মুসলিম মহিলাদের থেকে ভারতের মুসলিম মহিলারা অনেক পিছিয়ে পড়ছে।”

তিন তালাককে ‘পিতৃতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে লিখিত আবেদনে কেন্দ্র জানায়, “এর ফলে আধুনিক সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয় মুসলিম মহিলাদের।” এই প্রথাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রের তরফ থেকে বলা হয়েছে, গত ছ’দশকে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এর ফলে যে কোনো মুহূর্তে ডিভোর্সের আশঙ্কায় ভুগতে হয় বিবাহিত মুসলিম মহিলাদের।

“এটা হয়তো ঠিক যে খুব কম মহিলাকেই তিন তালাকের মধ্যে পড়তে হয়েছে, কিন্তু আদতে সমস্ত বিবাহিত মুসলিম মহিলাদের মধ্যেই একটা ভয় কাজ করে। এর ফলে প্রভাব পড়ে তাঁদের সামাজিক অবস্থায়, তাঁদের আচরণে এবং মর্যাদার সঙ্গে থাকার অধিকারে।”  

শুধু মুসলিম নয়, এক সময়ে বিভিন্ন ধর্মেই এই বহুবিবাহের প্রথার চল ছিল বলে আদালতকে জানিয়েছে কেন্দ্র। “গ্রিক, রোমান, হিন্দু, ইহুদি এবং অগ্নিপুজকদের সমাজেও এই বহুবিবাহের প্রথার চল ছিল। সুতরাং এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং সম্পর্ক আছে তখনকার সমাজব্যস্থার”, এমনই জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ তিন তালাক নিয়ে শুনানির সময়ে শীর্ষ আদালত জানায়, আগামী ১১ মে সাংবিধানিক বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। প্রসঙ্গত শুরু থেকেই তিন তালাকের বিরোধিতা করে আসছে কেন্দ্র, অন্য দিকে এর পক্ষে সওয়াল করছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)।