assam rifles
ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল অসম রাইফেল্‌সের হাতে।

নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: ক্ষোভের আঁচ করতে পেরে বিতর্কিত একটি নির্দেশিকা বাতিল করে ফেলল কেন্দ্র। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী উত্তরপূর্বের পাঁচ রাজ্যের জন্য চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল অসম রাইফেল্‌সের হাতে।

দু’দিন আগে একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্র। সেখানে বলা হয়েছিল, অসম, অরুণাচল, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম এবং মণিপুরে চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হল অসম রাইফেলসের হাতে। বিনা পরোয়ানাতেই কাউকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা থাকবে অসম রাইফেল্‌সের।

এমনকি পরোয়ানা ছাড়াই কারও বাড়িতে ঢুকে তল্লাশিও চালানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। যে জায়গা থেকে আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আফস্পা) তুলে নেওয়া হয়েছে, সে জায়গাতেই অসম রাইফেল্‌সের হাতে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

এই নির্দেশিকার পরেই ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। সেই ক্ষোভ আঁচ করতে পেরেই বিতর্কিত সেই নির্দেশিকা আপাতত হিমঘরে পাঠিয়ে দিল কেন্দ্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব রাজ্যের সঙ্গে কথা বলেই এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন অরুণ জেটলির চূড়ান্ত লড়াইয়ের বার্তা কি যুদ্ধের ইঙ্গিত?

তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, নাগরিকত্ব বিল নিয়ে উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতে প্রবল চাপে রয়েছে বিজেপি। সপ্তাহ দুয়েক আগে পর্যন্তও প্রায় রোজই বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছিল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এমনকি মিজোরামের মতো রাজ্যে স্বাধীনতার ডাক দেওয়া হয়েছে। এ সবের মধ্যে এই বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রের চাপ আরও বাড়বে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোটবাক্সে।

মাঝেমধ্যেই অসম রাইফেল্‌সের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন উত্তরপূর্বের সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভও দেখানো হয়। ২০০৪-এ এমনই বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল মণিপুর। জঙ্গি সন্দেহে মণিপুরের এক মহিলাকে গুলি করে মেরেছিল অসম রাইফেল্‌স। এর পরেই প্রবল বিক্ষোভ শুরু করেন মণিপুরের মহিলারা।

অসম রাইফেল্‌সের ওপরে আবার চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হলে ফের এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

উত্তপ্ত রাজ্য বিধানসভা

কেন্দ্রের বিতর্কিত নির্দেশিকা নিয়ে শুক্রবার অসম বিধানসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্ৰ মন্ত্রকের এই জনবিরোধী অমানবিক বিজ্ঞপ্তির ফলে এই অঞ্চলের মানুষের সংবিধানপ্ৰদত্ত মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে বিধানসভার দৈনন্দিন কাজকৰ্ম স্থগিত রেখে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য মুলতুবি প্ৰস্তাব উত্থাপন করে কংগ্ৰেস, অগপ এবং এআইইউডিএফ-সহ বিরোধীরা। বিধানসভার অধ্যক্ষ হিতেন্দ্ৰ নাথ গোস্বামী এই প্ৰস্তাব অগ্ৰাহ্য করে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ আলোচনার সম্মতি দেন। কিন্তু অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্ৰকাশ করে কংগ্ৰেস, এআইইউডিএফ ওয়াকআউট করে।

বিধানসভায় বিরোধী দল তথা কংগ্ৰেস পরিষদীয় দলের নেতা দেবব্ৰত শইকিয়া বলেন, কেন্দ্ৰীয় সরকার প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েছিল উত্তরপূৰ্বাঞ্চল থেকে সশস্ত্ৰ বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন প্ৰত্যাহার করা হবে। অসমে ১০০টির মধ্যে ৯৭টি ক্ষেত্ৰে মানবাধিকার লঙঘনের অভিযোগ আছে। রাজ্যে আইনটি চাপিয়ে দিলে রাজ্যের সামাজিক পরিস্থিতি বিনষ্ট হবে। তিনি কেন্দ্ৰীয় সরকারের নিৰ্দেশটি প্ৰত্যাহার করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

অগপর পবিন্দ্ৰ ডেকা অভিযোগ করেন, সংবিধানের মৌলিক অধিকারকে অগ্ৰাহ্য করে কেন্দ্ৰীয় সরকার আসাম রাইফেলস-এর হাতে বিশেষ ক্ষমতা তুলে দিতে চাইছে। এআইইউডিএফ-র আমিনুল ইসলাম এই স্পৰ্শকাতর, ভয়ানক নিৰ্দেশাবলি প্ৰত্যাহারের দাবি জানান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here