মুম্বই: পশুবাজারে গবাদি পশু বিক্রি বন্ধ নিয়ে বির্তকের মাঝেই নয়া বির্তক উস্কে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রবিবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ বিল্ডিং-একটি আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ জি আহির বলেন, ‘প্রজেক্ট টাইগার’-এর মতো ‘প্রজেক্ট কাউ’ শুরু করা নিয়ে বিবেচনা করেছে কেন্দ্র।

‘দি গ্লোরিয়াস ইন্ডিয়ান কাউ’ শীর্ষক ওই আলোচনাসভায় তিনি বলেন, ‘‘গরুরা আত্মনির্ভর প্রাণী নয়। তাই তাদের দেখভাল করা বেশ কঠিন। সে কারণে তাদের সঠিক ভাবে দেখভালের জন্য বাঘেদের মতো গরুদেরও অভয়ারণ্য তৈরি করা প্রয়োজন।’’ এর জন্য ৭ হেক্টর বনভূমিকে গরুর অভয়ারণ্য বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এই সভায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেন, পশুবাজারে গরু বিক্রি বন্ধের নির্দেশ সংবিধানসম্মত। গরু এবং গরুর মাংস রফতানিতে আগের সরকারের চালু করা ভর্তুকি বন্ধ করেছে কেন্দ্র।

তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমি বিশ্ব বুঝতে পেরেছে গরুর মাংস প্রোটিনের ভালো উৎস নয়, তারা ডাল এবং সোয়াবিন থেকে আরও বেশি প্রোটিন পেতে পারে।’’

আরও পড়ুন : মা এবং ভগবানের বিকল্প হল গরু, বিধান হায়দরাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতির

তিনি গরু সংরক্ষণের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, গরুর মূত্রে ঔষধি গুরুত্ব ছাড়াও গোবর নানা কাজে লাগে। তাই গরুকে সংরক্ষণ করা জরুরি। স্বামী আরও বলেন, ভারতীয় গরুর দুধ উন্নতমানের, তাই এর চাহিদাও যথেষ্ট বেশি।

বিদেশের চেয়ে ভারতে দুধের দামও যথেষ্ট কম। তাই ভারত গরুর দুধের অন্যতম প্রধান রফতানিকারক হতে পারে।

এই আলোচনাসভায় ইস্কনের আধ্যাত্মিক গুরু রাধানাথ স্বামী বলেন, ‘‘গরু বিশ্ব অর্থনীতির ভিত্তি। তাই শুধু তাদের বধ করা আটকানোই নয়, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার যাতে সুখে থাকতে পারে সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।”

‘মফতলাল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর চেয়ারম্যান হৃষীকেশ মফতলাল বলেন, কর্পোরেট সংস্থাগুলির উচিত তাদের ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি’-র মধ্য গরু সংরক্ষণকেও অর্ন্তভুক্ত করা।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন গোরক্ষককে পুরস্কৃতও করা হয়।

এই সভায় ‘কাউ কানেক্ট’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপেরও উদ্বোধন করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here