bay of bengal

খবরঅনলাইন ডেস্ক: গত বছর ঘূর্ণিঝড় ফণী (Cylone Fani) যখন হুংকার দিয়েও সে ভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারেনি, তখন কলকাতাবাসীর একটা বড়ো অংশই তাচ্ছিল্য করেছিলেন। কিন্তু তার ঠিক এক বছর পর ঘূর্ণিঝড় উম্পুন (Cyclone Amphan) যখন অতি শক্তিশালী রূপ নিয়ে হানা দিল, তখন সেই তাচ্ছিল্যের সুর বদলে গেল।

আবহাওয়ার অবস্থা নিয়ে যে হেয় করা উচিত নয় সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছিল উম্পুন। চারিদিকে ধ্বংসের চেহারা দেখে বিষণ্ণ হয়ে পড়েছিলেন কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গের মানুষজন। আর কোনো দিন যাতে ঘূর্ণিঝড় না দেখতে হয়, সেই প্রার্থনাও করছেন অনেকে।

Loading videos...

যদিও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে (Bay of Bengal) একটি ঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা হয়েছে। সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতেও পারে, আবার অতি গভীর নিম্নচাপেও থেকে যেতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ না তার রূপ আর গতিপথ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হচ্ছে, তত দিন চিন্তা থাকবেই রাজ্যবাসির কাছে।

আন্দামান সাগরে তৈরি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়দার আল্টিমা কিছু দিন আগে থেকেই এমন পূর্বাভাস দিচ্ছিল। এ বার কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরও জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী ৯ অক্টোবর উত্তর আন্দামান সাগরে (Andaman Sea) একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে। নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোবে বলেও ইঙ্গিত করছে আইএমডি। কিন্তু তার পরবর্তী গতিপ্রকৃতির ব্যাপারে আর কিছু বলা হয়নি।

অতীতের রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যাবে যে এই সময়ে আন্দামানের নিম্নচাপ তৈরি হয়ে পূর্ব ভারতের উপকূলের দিকে এগোলে সেটা ঘূর্ণিঝড়েই রূপান্তরিত হয়। ২০১৩ সালে ওড়িশায় আঘাত হানা ফাইলিন বা তার ঠিক পরের বছর বিশাখাপত্তনমকে তছনছ করে দেওয়া হুডহুডের জন্ম ঠিক এই সময়েই আন্দামান সাগরে হয়েছিল।

তবে আসন্ন নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবেই, এমনটা এখনও নিশ্চিত করছে না ওয়েদার আল্টিমা। সংস্থার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার বর্তমান পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নিম্নচাপটি সাগরে থাকাকালীন অল্প কিছু সময়ের জন্য ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তবে স্থলভূমিতে ঢোকার আগেই সেটা গভীর নিম্নচাপে দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

সম্ভাব্য গতিপথ

বঙ্গোপসাগরের চালচলন সাম্প্রতিক কালে এতটাই অস্থির হয়ে গিয়েছে যে পাঁচ-ছয় দিন আগে নিশ্চিত করে কোনো নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের ব্যাপারে পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। তাই বর্তমানে নিশ্চিত করে কোনো গতিপথের কথা এখনও বলা যাচ্ছে না।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় যা-ই হোক না কেন, তার সরাসরি আঘাত থেকে হয়তো রক্ষা পেয়ে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গ। ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের দিকেই তার আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। যদিও শেষ মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন করার যাবতীয় সম্ভাবনাও এক্কেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কেমন প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গে

যে বিষয়টা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হল এখন উত্তর ভারতের একটা বড়ো অংশে বর্ষা বিদায় নিয়েছে। বর্ষা বিদায় নেওয়ার এই সময়টায় বঙ্গোপসাগরের কোনো নিম্নচাপের আচমকা পথ পরিবর্তন হতেই পারে। আন্দামানের দিক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে এগোতে, আচমকা উত্তর বা উত্তরপূর্বমুখী হয়ে যেতে পারে সে। সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা থাকে।

তবে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সেটা যা-ই হোক না কেন, ওড়িশা দিয়ে প্রবেশ করলেও বর্ষাকালের মতো সে আর মধ্য ভারতের দিকে এগোতে পারবে না। ফলে স্থলভূমিতে ঢুকেই তার গতিপথ উত্তরপূর্বমুখী হতে পারে। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগোতে পারে সে। তবে সে ক্ষেত্রে স্থলভূমি দিয়ে এগোবে বলে অনেকটাই দুর্বল হয়ে রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড় তিতলি (Cylone Titli) ঠিক এই পথ অনুসরণ করেছিল। দক্ষিণ ওড়িশায় আঘাত হেনে সে উত্তরপূর্বে, অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের দিকে ঘুরে গিয়েছিল। এ রাজ্যে সে ঢুকেছিল গভীর নিম্নচাপ হয়ে। ফলে তার প্রভাবে দিন তিনেক ভালো বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গে।

আসন্ন নিম্নচাপটির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হতে পারে বলে মনে করছে ওয়েদার আল্টিমা। অর্থাৎ, ১১ অক্টোবরের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বাড়বে। নিম্নচাপটির গতিপ্রকৃতির ওপরে নির্ভর করে দক্ষিণবঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া থাকবে কি না, বা থাকলেও কী রকম থাকবে। তবে নিম্নচাপটির গতিপ্রকৃতি ১০ অক্টোবরের আগে ভালো করে বোঝা যাবে না।

আগামী দু’ দিন বৃষ্টি চলবে দক্ষিণবঙ্গে

বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের ওপরে একটি নিম্নচাপ রয়েছে। সেটি স্থলভূমিতে না ঢুকে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ওড়িশা আর পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরের ওপরে। তার প্রভাবেই গত কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে।

নিম্নচাপটির প্রভাব আরও দু’ দিন থাকবে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। বৃহস্পতিবারের পর থেকে আবহাওয়া পরিষ্কার হতে পারে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে, সকালের দিকে হালকা কুয়াশাও দেখা দিতে পারে।

অন্য দিকে উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি চলতে থাকবে। বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। তবে অতি ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

করোনাভাইরাসের বাহক হতে পারে নোটও, মানছে আরবিআই: সিআইএটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.