ওয়েবডেস্ক: প্রত্যেক বছর যত ছাত্রছাত্রী ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক হয় তার অর্ধেকেরও ক্যাম্পাসিং-এর মাধ্যমে চাকরি জোটে না। চাকরির এই বেহাল দশার ছবিটা কিছুটা বদলাতে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পাঠক্রমে বদল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সামনের বছর জুলাই থেকে বদলে যাচ্ছে পাঠক্রম। নতুন পাঠক্রমে থাকছে বুলেট ট্রেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), বিগ ডেটা অ্যানালিটিক এবং ইন্টারনেট অফ থিংগস (আইওটি)।

ভারতের কারিগরি শিক্ষার নিয়ামক সংস্থা অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব টেকনিক্যাল এডুকেশনের (এআইসিটিই) এক আধিকারিক বলেন, বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং জগতে চাকরির বাজার খুবই খারাপ। সেই পরিস্থিতির বদল ঘটাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতের প্রায় তিন হাজার ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতি বছর গড়ে সেখান থেকে প্রায় সাত লক্ষ পড়ুয়া ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক হয়ে পাশ করে। কিন্তু চাকরির পায় তার অর্ধেক। এআইসিটিই-এর তথ্য বলছে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভারতে মোট ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতকের সংখ্যা ছিল সাত লক্ষ ৫৮ হাজার, কিন্তু তাদের মধ্যে ক্যাম্পাসিং-এর মাধ্যমে চাকরি পেয়েছে মাত্র তিন লক্ষ ৩৪ হাজার পড়ুয়া।

১১টা সাবজেক্ট কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এই নতুন পাঠক্রমের খসড়া তৈরি করেছে এআইসিটিই। এই খসড়ায় নিজেদের সিলমোহর দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকও। নতুন সিলেবাস অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে থিওরিটিকাল ক্লাসের সংখ্যা ৩০ থেকে কমিয়ে ২০ করা হবে। তবে পরিবেশবিদ্যা এবং ভারতীয় সংবিধানের মতো বাধ্যতামূলক ক্লাসগুলির কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না। তবে এই দুই বিষয়ের জন্য ছাত্রছাত্রীরা কোনো নম্বর পাবে না।

নতুন এই পাঠক্রম অনুযায়ী শেষ বর্ষের পড়ুয়ারা যদি চায় নিজেদের ইচ্ছেমতো প্রজেক্টের কাজ করতে পারে। পাশাপাশি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ষের গ্রীষ্মের ছুটিতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও থাকবে।

এআইসিটিই ভাইস চেয়ারম্যান এমপি পুনিয়ার কথায়, “পড়ুয়াদের ওপর থেকে পড়াশোনার চাপ কিছুটা কমানোর জন্য এই পাঠক্রমে বদল আনা হচ্ছে। পড়ুয়ারা প্রচুর পরিশ্রম করে বোর্ড পরীক্ষায় পাশ করে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হয়। আমরা তাদের ওপর আর চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। বরং তাদের সৃষ্টিশিলতার বিকাশ ঘটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত আরও এক আধিকারিকের মতে, বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্যই পাঠক্রমে এই বদল আনা হচ্ছে। তাঁর মতে, “ইঞ্জিনিয়ারিং-এর স্নাতকরা অনেকাংশেই বর্তমান যুগের ব্যাপারে ঠিক ওয়াকিবহাল হতে পারছে না। আমরা এক দিকে যখন বুলেট ট্রেনের কথা বলছি, তখন ওরা স্টিম ইঞ্জিন নিয়ে পড়ছে। তাই পাঠক্রমে বদল আনা দরকার।”

বোম্বে আইআইটির অধ্যাপক প্রদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁর মতে। শুধুমাত্র নিজের পুঁথিগত জ্ঞান বাড়ানোই পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়, বরং তার সঙ্গে মনের বিকাশ ঘটানো আরও বেশি প্রয়োজন। তাঁর মতে, “পড়ুয়াদের স্বাধীন ভাবে চিন্তাভাবনা করার সুযোগ করে দিতে হবে আমাদের।”

এআইসিটিই-এর মতে, পাঠক্রমের পাশাপাশি পরীক্ষার ধরনেও বদল আনা হবে। এখন চার মাসে ২৪টা পরীক্ষায় বসতে হয় পড়ুয়াকে, সেটা কমানোর ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here