nirbhaya ashadevi

নয়াদিল্লি: ১৬ ডিসেম্বরের সেই অভিশপ্ত রাত। দিল্লির বাসে গণধর্ষিতা হলেন নির্ভয়া। ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও হেরে গেলেন নির্ভয়া। আজ বেঁচে থাকলে ২৮ বছরে পা দিতেন তিনি, এই কথাটি বলেই চোখ ছলছল করে ওঠে তাঁর মা আশাদেবী সিংহের।

দ্বারকা অঞ্চলে নিজের বাড়িতে বসে আশাদেবী বলেন, “যখনই কোনো অন্ধকার ফাঁকা রাস্তা দিয়ে যাই সেই দিনের কথা মনে পড়ে। যখন কোনো ধর্ষণের খবর শুনি সেই দিনের কথা মনে পড়ে। ওই জায়গাটা দিয়ে গেলে মনে হয় আমার মেয়ে এখনও হাসপাতালে রয়েছে। এই সব চিন্তা মাথায় এলে খুব ভয় পেয়ে যাই।”

ন্যায়বিচারের জন্য এখনও নিরন্তর লড়াই চালাচ্ছেন আশাদেবী। তিনি বলেন, “মানুষ আমাকে অতীত ভুলে এগিয়ে যেতে বলে। কিন্তু আমার আরও দু’টি সন্তান রয়েছে। আমি তাদের কখনও সেই ঘটনার কথা ভুলতে দিই না। আমিও কোনো দিন ভুলব না। এই দুঃখটাই আমার সব থেকে বড়ো শক্তি।”

আশাদেবী এখনও ক্ষুব্ধ। তাঁর কথায়, নারী নিরাপত্তায় যা পরিবর্তন এসেছে সবই খাতায় কলমে, বাস্তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। “যা পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে সবই হয় খাতায় কলমে এবং ‘প্রক্রিয়ার মধ্যে’। সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর ‘প্রক্রিয়া চলছে’, পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানোর ‘প্রক্রিয়া চলছে’। মহিলাদের এখনও ধর্ষণ হতে হচ্ছে। তা হলে পরিবর্তন এল কোথায়? শহর এখনও নিরাপদ নয়। ন্যায়বিচার পেতে এখনও সময় লাগে। যারা আমার মেয়েকে মারল তারা এখনও বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কারও মধ্যে কোনো ভয় নেই।”

ফাঁকা রাস্তায় একা মহিলাকে দেখলে তিনি এখনও ভয় পেয়ে যান বলে জানিয়েছেন আশাদেবী। তবে তিনি এখনও একটা ব্যাপারে আশাবাদী, যে মহিলারা এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, “পাঁচ বছর আগে মহিলারা বিশেষ আওয়াজ তুলত না, এখন তাদের আওয়াজ আরও বেশি করে শোনা যায়। এটাই একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here